দিনাজপুরের হিলি পোর্টে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে লাল কৃষ্ণচূড়া

দিনাজপুরের হিলি পানামা পোর্টসহ ঘোড়াঘাটের মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়ছে কৃষ্ণচূড়ার গাছ। প্রকৃতিকে সাজাতে মেতে উঠছে, এইগাছগুলো। বৈশাখ মাস, গাছে গাছে বেড় হচ্ছে নতুন পাতা, আর সেই পাতার মুখে উঁকি মারছে ফুল। হিলি পানামা পোর্টের গেট থেকে ঘোড়াঘাট যাওয়ার রাস্তার এক কিলোমিটার পরপর দেখা যায় কৃষ্ণচরড়ার গাছ। গাঢ় লাল আর হলুদ রঙের ফুলে ছেঁয়ে গেছে পুরো কৃষ্ণচূড়া গাছ। ঝিরিঝিরি পাতার মাঝে বেড় হয়েছে ফুল। আর সেই ফুল মন কেড়ে নিচ্ছে পথচারী আর স্থানীয় প্রকৃতির প্রেমিদের। শষ্য-শ্যামলা আর সবুজে ঘেরা বাংলার রূপ, এই রূপকে আরও নতুন করে রূপ দিচ্ছে কৃষ্ণচূড়ার গাছ। বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীসহ রাস্তায় হেটে যাওয়া মানুষগুলো দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন কৃষ্ণচূড়ার ছড়িয়ে দেওয়া সৌন্দর্য। হিলি-ঘোড়াঘাট সড়কের সাতনি বাজারে পাশাপাশি দুইটি কৃষ্ণচূড়া গাছের পাশ দিয়ে হেটে যাওয়া একজন কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, কৃষ্ণচূড়া গাছ একটি প্রকৃতির সৌন্দর্য্যের প্রতিক। প্রতিদিন কলেজ যাওয়ার সময় এই গাছটির পাশে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তার সুভাষ উপভোগ করতাম। করোনার প্রাদুর্ভাবে আর কলেজে যাওয়া হয় না। তাই তার সুভাষ উপভোগ নেওয়া হয় না। হিলি পানামা পোর্ট গেটে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তা সদস্য তাহের উদ্দিন বলেন, এই পোর্টে ১ নং ও ৩ নং গেটে ৩ টি কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। এই গাছগুলো পোর্টের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলছে। পোর্ট শ্রমিক আবু বক্কর বলেন, কৃষ্ণচুড়া গাছের দিকে তাকালে মন ভাল হয়ে যায়। আবার রৌদে খারাপ লাগলে ঐকৃষচূড়া গাছতলায় বসি। কথা হয় একজন মোটরসাইকেল আরোহীর সাথে, তিনি বলেন, এই কৃষ্ণচুড়ার সাথে আমার অনেক স্মৃতিবিজড়িত মুহূর্ত আছে। কলেজ জীবনে কলেজে কৃষ্ণচূড়া গাছতলায় বসে বন্ধু-বান্ধবীদের সাথে মেতে উঠতাম আড্ডায়। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন কর্মস্থলে যেতে হয়, আর মনে পড়ে যায় ফেলে আসা দিনগুলির কথা। ঘোড়াঘাট-দিনাজপুর মহাসড়ক দাঁড়িয়ে থাকা কৃষ্ণচূড়া গাছটি, আর সেই গাছতলায় বসে থাকা স্থানীয় কবির উদ্দিন বলেন, আমাদের এই সড়কের চারপাশে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলছে কৃষ্ণচূড়া গাছটি। বিকেল হলেই বিভিন্ন বয়সী ছেলে-মেয়েরা এই গাছতলায় ভিড় জমায়। কথা হয় সাতনি প্রাইমারি স্কুলের একজন প্রবীণ শিক্ষক আজিজুল হকের সাথে, তিনি বলেন, আমার স্কুলে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে, যেটি ধরে রেখেছে স্কুলের সৌন্দর্য। সেটি আমার চাকরি জীবনের স্মৃতি, চাকরির শুরুতেই আমি নিজ হাতে লাগিয়েছিলাম। স্কুল প্রাঙ্গণে কত শিক্ষক আর ছাত্র-ছাত্রীদের স্মতিমাখা সময়গুলো আজও বহন করে আসছে।

 

Comments: