LATEST
বগুড়ায় চোর সন্দেহে পায়ে পেরেক ঢুকিয়ে যুবককে নির্যাতন বগুড়ায় বিশেষ অভিযানে রেলওয়ে জায়গায় উদ্ধার ও ১৬ দোকান সিলগালা মুজিববর্ষে বগুড়ায় ঘর ও জমি পাচ্ছে আরও ৮৫৭ গৃহহীন পরিবার মুজিববর্ষে ঝিনাইদহে ৭০৫ গৃহহীন পরিবার ঘর পাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শতাধিক বেনামি আম নামকরণের উদ্যোগ মোরেলগঞ্জে মুজিবর্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের গৃহ হস্তান্তর বিষয়ক প্রেস ব্রিফিং ঝিনাইদহে পুলিশ কর্মকর্তা দুই ভাইয়ের মৃত্যু,গ্রামজুড়ে চলছে শোকের মাতম! ঝিনাইদহ সীমান্ত থেকে সাড়ে ৫ মাসে ৯২৮ জন আটক! বাজেটে মহার্ঘ ভাতাসহ ৮ দফা দাবি ১১-২০ গ্রেডের চাকরিজীবীদের পাবনায় দ্বিতীয় ধাপে ৩৩৭পরিবার পাচ্ছে ‘স্বপ্নের নীড়’

যত্রতত্র ইটভাটা, হুমকিতে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য

সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করে বগুড়ার ধুনটে স্থানীয় প্রশাসনকে 'ম্যানেজ' করে কৃষিজমিতে গড়ে উঠেছে ২৫টি ইটভাটা। এগুলোর নেই কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র, লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র। তার পরও চলছে বছরের পর বছর। এসব ইটভাটার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, পাশাপাশি ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। শুধু তাই নয়, প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় অনুমোদনহীন এসব ভাটায় ইট তৈরি, টানা ও কাঁচা ইট পোড়াতে ঝুঁকিপূর্ণ আগুন দেওয়ার কাজেও ব্যবহার করা হচ্ছে শিশুদের, যা সম্পূর্ণ অবৈধ। সরেজমিনে দেখা গেছে, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই কৃষিজমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার পাশে ইটভাটাগুলো গড়ে তুলেছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ভাটায় পোড়াচ্ছে কাঠ। এতে কালো ধোঁয়া আর ছাইয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গাছপালা, কমছে ফসলের উৎপাদন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না কৃষকরা। উপজেলার খাদুলী, কুড়িগাতি, উজালশিং, গোবিন্দপুর ও জোলাগাতী গ্রামে মাঝখানে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকায় তিন ফসলি জমিতে ৮টি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ইটভাটাগুলো হলো একতা, ফাইভ স্টার, বস, গ্রামীণ, আদর্শ, বন্ধু, বি বি সি ও দিগন্ত। কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করলেও এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের জমির ধান চিটা হয়ে গেছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন ব্যয় তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। আর মাত্র ১০-১২ দিন পরেই ধানকাটা শুরু হবে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইটভাটার বেশ কয়েকজন মালিক জানান, অনুমোদন না থাকলেও তাঁরা প্রশাসনকে নিয়মিত টাকা দিয়ে এসব ইটভাটা চালাচ্ছে। প্রশাসন বিভিন্ন দিবসের নামে ভাটা মালিকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন। তাঁরাও ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য এই টাকা দিয়েছেন। তবে তাঁরা অচিরেই ইটভাটার কাগজপত্র করে নেবেন। ধুনট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিদুল হক বলেন, 'কৃষকের ধানক্ষেতের ক্ষতির অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে যাওয়ার পর ঘটনার সত্যতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে ভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে'। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, 'কৃষকের ধানক্ষেতের ক্ষতির অভিযোগটি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইটভাটাগুলোর বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে'।


 

Comments: