নাটোরের সিংড়ায় চলনবিলের মেলা উৎসব থেকে বঞ্চিত হাজার হাজার জনগণ

নাটোরের সিংড়ায় বৃহত্তম চলনবিল অঞ্চলে যে কয়েকটি গ্রামীণ মেলা অনুষ্ঠিত হয় তার মধ্যে অন্যতম তিশিখালী,বিয়াশ ও বারুহাস মেলা। প্রতিবছর চৈত্র মাস থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত এই তিন মেলাকে ঘিরে আনন্দ উৎসবের শেষ নেই। কিন্তু মহামারী করোনার থাবায় গতবছর বন্ধ হয় এই তিনটি মেলা। এবছরও অনুষ্ঠিত হয়নি তিশিখালী ও বারুহাস মেলা। করোনা পরিস্থিতির কারনে হয়তো আগামী বৈশাখের শেষ মঙ্গলবারেও অনুষ্ঠিত হবে না বিয়াশ মেলা। ফলে দুই বছর যাবত এই তিন মেলার আনন্দ উৎসব থেকে বঞ্চিত প্রায় ৫০ গ্রামের সাধারণ মানুষ। নাটোরের সিংড়া উপজেলা সদর হতে প্রায় ৮ কিঃমিঃ পুর্বে চলনবিল অধ্যুষিত একচিলটে ভিটার উপরে পীর ঘাসী দেওয়ান মাজার। এই মাজারকে ঘিরেই প্রতিবছর চৈত্র চন্দ্রিমার ৬ তারিখে ২ দিন ব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলার আগের রাতে মাজার চত্বরে বসে গানের আসর। দুর দুরান্ত থেকে থেকে আসেন গানের দল। দেহতত্ত গানে মুখরিত হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। পরের দিন সকাল থেকে দিনব্যাপী চলে মেলার কেনা কাটা। দুর-দুরান্ত থেকে মেলায় আসা দর্শণার্থীরা মাজারের চালে নিক্ষেপ করে মানত করা কবুতর,মুরগী,ডিম,ডাব সহ নানা পণ্য ও টাকা পয়সা কিন্ত ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক সম্পুর্ন হারাম হলেও এখনো নিয়মিত প্রতি সপ্তাহে গান -বাজনা চলছে তিশিখালী মাজার কে কেন্দ্র করে। লক্ষ লক্ষ টাকা এই মাজারের খাদেমের হাতে কিন্ত আজো মসজিদ এর অবস্থা বেহাল ই রয়েছে।এভাবেই শেষ হয় তিশিখালীর মেলা। তিশিখালী মেলার ঠিক ৭ দিন পরে অনুষ্ঠিত হয় বারুহাস মেলা। সিরাজগঞ্জ জেলার তাড়াশ উপজেলা সদর হতে ১০ কিঃমিঃ পশ্চিমে জমিদার খ্যাত বারুহাস গ্রামে ৩ দিন ব্যাপী এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় দেড়শত বছরের পুরনো এই বারুহাস মেলার পুর্ব নাম ছিল ভাদাই মেলা। এ মেলার বড় আর্কষণ হলো তরতাজা গরু-খাসীর মাংস ও দেশী প্রজাতির বড় মাছ। এছাড়া কাঠ ফার্র্র্নিচার সহ নানা রকম খেলনা সামগ্রীও মেলাকে আর্কষণ করে। মেলাকে ঘিরে জামাইদের অনেক আদর আপ্যায়ণ করা হয় বলে অনেকে এই মেলাকে জামাই মেলাও বলে থাকেন।  চৈত্র চন্দ্রিমার ১৩ তারেিখ এই মেলা অনুষ্ঠিত হলেও মুল মেলার একদিন আগে থেকেই শুরু হয় মেলার কার্যক্রম। দিনব্যাপী মুল মেলার পরের দিন অনুষ্ঠিত হয় বউ মেলা। বৈশাখ মাসের শেষ মঙ্গলবারে ১ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় বিয়াশ মেলা। সিংড়া উপজেলা সদর হতে প্রায় ১৪ কিঃ মিঃ পুর্বে ডাহিয়া ইউনিয়নের বিয়াশ বাজারে অনুষ্ঠিত হয় এই মেলা। বৈশাখ মাসে ইরি-বোরো ধান কাটা পর এই মেলার আয়োজন হয় বলে সাধারণ মানুষ নতুন ধানের নতুন টাকায় বাড়িতে জামাই-ঝি সহ লোককুটুম এনে মেলার আনন্দ উৎসবে মেতে উঠেন। বারুহাস মেলার মত  বিয়াশ মেলারও বড় আকর্ষণ তরতাজা গরু-খাসীর মাংস ও দেশি প্রজাতির বড় মাছ। তবে মেলায় উঠা আগাম জাতের টসটসে লিচু ফল মেলার দর্শণার্থীদের আকর্ষণ করে। মহামারী করোনার কারনে মেলাবাসীরা পর পর দুই বছর ধরে মেলার আনন্দ উৎসব থেকে বঞ্চিত হলেও তারা আজও আশায় বুক বেঁধে আছেন। একদিন এই করোনার কালো মেঘ পরিস্কার হবে। উঠবে করোনা মুক্ত নতুন সূর্যের ভোর। সেদিন আবারও চলনবিলের মেলাবাসীরা নতুন উদ্যোমে জেগে উঠবে মেলার আনন্দ উৎসব।

 

Comments: