মহম্মদপুরে খামার বাড়ী করে সাফল্যের স্বপ্ন বুনছে ইমরান

ছাগল, গবাদি পশু কিংবা হাঁস-মুরগী পালন করে ব্যাপক সাফল্য অর্জনের কথা অনেক শুনা যাই। কিন্তু এস এস সি থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত ফাস্টক্লাস পাওয়া একজন যুবক চাকুরীর স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়ে খামার বাড়ী তৈরী করে অর্থনৈতিক ভাবে সফলতা অর্জন, খুব একটা শোনা না গেলেও এই সাফল্য অর্জনের স্বপ্ন বুনে চলেছে মোঃ ইমরান আলী। ইমরান মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা সদরের ধোয়াইল গ্রামের মোঃ বোরহান উদ্দীন মোল্যার ছেলে। ৩০ বছরের এই বেকার যুবক তারন্যকে কাজে লাগিয়ে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় প্রথমে ৫শ সোনালী মুরগী দিয়ে গড়ে  তোলে খামারটি। পরে ৫৫শতাংশ জমির উপরে ২ হাজার মুরগী পালনের একটি ঘর এবং বিভিন্ন রকমের শাক-সবজি, ফলমূল চাষ করে গড়ে তোলেন খামার বাড়ী। যার থেকে তার গড় মাসিক আয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। সুন্দর পরিবেশে খামার বাড়ী তৈরী করে ইমরানের আর্থিকভাবে সফলতা অর্জন দেখে এ অঞ্চলের তরুন প্রজন্ম ক্রমেই খামার বাড়ীর দিকে ঝুঁকছে। এলাকার যুব সমাজের কাছে ইমরান এখন মডেল। সফল ফার্ম ব্যবসায়ী হিসেবেও বেশ পরিচিত। ইমরানের এই ফার্মের সফলতায় যে মানুষটি সর্বঙ্গন সহযোগিতা করে সে তার সহধর্মীনী শিউলী ইসলাম মাবিয়া। ইমরান-মাবিয়া দম্পত্তির এই খামার বাড়ীর সাফল্য দেখে এলাকার বেকার যুবকদের অনেকেই খামার বাড়ী তৈরী করার স্বপ্ন দেখছে। তবে এই খামার বাড়ীর চাহিদা অনুযায়ী দরকার অনেক টাকা। যা তার পক্ষে ব্যায় করা অসম্ভব্য হয়ে পড়েছে। কোনো দাতা সংস্থার মাধ্যমে লোনের সহায়তা পেলে উপকৃত হতো বলে জানান ইমরান। সরেজমিনে যেয়ে জানা ও দেখা যায়, ২০১৪ সালে ঢাকার সরকারি বাংলা কলেজ থেকে সমাজ কল্যাণে মাস্টার্স এবং মাগুরা সিদ্দীকিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল পাশ করে ইমরান। সেই থেকে একটি সরকারি চাকুরীর জন্য দীর্ঘ পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে অনেক ছুটাছুটি বা বিভিন্ন লোকের কাছে ধর্না দিয়েও যখন চাকুরী হয়নি, তখন ঠিক করে নিজেই কর্মসংসানের ব্যবস্থা করবে এবং অন্যকেও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাবে। এ লক্ষ্যে ২০২০ সালে বসতবাড়ীর আঙ্গিনায় ছোট্র একটি ঘরে মাত্র ৫শ সোনালী মুরগী দিয়ে তার এই স্বপ্নের যাত্রা শুরু হয়। এভাবেই চলতে থাকে ইমরানের মুরগীর ফার্ম। কিন্তু এতে ইমরান থেমে থাকেনি। বেশী লাভবান এবং স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পরবর্তীতে বাৎসরিক ২৬ হাজার ৫শ টাকায় ৫৫শতাংশ জমি লিজ নিয়ে গড়ে তোলে খামার বাড়ী। এই খামার বাড়ীতে রয়েছে ২২শ ৫০ স্কয়ার ফিটের একটি ঘর, যেখানে ২ হাজার সোনালী বা ব্রয়লার মুরগী পালন করা হয়। বাকী জায়গায়- লাল শাক, লাউ, দেড়শ, খিরে ও বেগুনসহ নানা প্রকার শাক-সবজির চাষ হয়। ইমরানের এই খামার বাড়ীর মুরগীর মাংস ও শাক-সবজি উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের চাহিদা পূরণ করে থাকে। লেখাপড়া শিখে চাকুরীর পরিবর্তে খামার বাড়ী কেন, জানতে চাইলে ইমরান বলেন, আমার স্বপ্ন ছিলো সরকারি চাকুরী করার। তাই অনেক ছুটেছি চাকুরী নামক সোনার হরিণের পিছনে। কিন্তু প্রাইভেড চাকুরী আমার কখনোই ইচ্ছা ছিলনা। প্রয়োজনে প্রাইভেড ফার্ম তৈরী করবো। নিজের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে ভেবেই আমার এই উদ্যোগ। তবে চাহিদা অনুযায়ী কাজ করতে পারছি না, কারণ অনেক টাকার প্রয়োজন। যদি কোনো দাতা সংস্থা থেকে লোন পেতাম তাহলে আমার স্বপ্নের পাশাপাশি এই খামার বাড়ীতে কাজ করে কয়েকটি পরিবারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো জানান।

 

Comments: