বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক রোস্তম শিকদার

“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রমা”। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষনের পর পরই আপামর বাঙালী জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বঙ্গবন্ধুর এই উদাত্ত আহবানে সারা দেশের ন্যায় মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সংগঠকগনও নিজেদের জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাত থেকে দেশকে মুক্ত করবার লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করতে থাকেন। সেই সংগঠকদের মধ্যে মহম্মদপুর উপজেলা সদরের ধুপুড়িয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রোস্তম আলী শিকদার একজন অন্যতম মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ছিলেন। তিনি শুধু একজন মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকই নন নিজে বন্দুক হাতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহনও করেছেন। মানুষ বেঁচে থাকলে বার্ধক্য আসবে। আর এর সাথে সাথে আসবে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা। আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রোস্তম আলী শিকদার বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন বলে জানান বড় ছেলে আওয়ামীলীগ নেতা সাজ্জাদ আলী শিকদার। বীর মুক্তিযোদ্ধা রোস্তম অীালী শিকদারের মেজো ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী মোঃ সূজন শিকদার বলেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি গর্বিত। আমার বাবা বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন। যশোর-ফরিদপুর পরে ঢাকা মেডিকেলে প্রায় একমাস চিকিৎসা দেওয়ার পর বাড়ীতে নিয়ে এসেছি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সুস্থতার জন্য সকলের কাছে দোয়া প্রত্যাশা। মো. রোস্তম আলী শিকদার জানান, এলাকার যুবকদের সংগঠিত করে ভারতে ট্রেনিং করতে পাঠানো সহ নানা ভাবে সহযোগিতা করেছি। তারা ভারতের নদীয়ার চাপড়া ক্যাম্প থেকে স্বল্পকালীন ট্রেনিং শেষে করে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। তাছাড়া মুক্তিযোদ্ধা চলাকালীন সময়ে আমার বাড়ীতে মুক্তিযোদ্ধাদের অস্থায়ী ক্যাম্প ছিল। মো. রোস্তম আলী শিকদার শুধু মুক্তিযোদ্ধা সংগঠকই ছিলেন না, তিনি নিজে বন্দুক হাতে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছেন বলে জানান। উপজেলা মুক্তিেেযাদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ হাই মিয়া বলেন মো. রোস্তম আলী শিকদার একজন অন্যতম মুক্তিযুদ্ধা সংগঠক ছিলেন। তিনি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যে নিবেদিত প্রাণ। উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা রোস্তম আলী শিকদারের সুস্থতা কামনা করি।  


 

Comments: