সাড়ে ৩’শ নারী শ্রমিকের কর্মস্থল এখন নবাবগঞ্জের হেয়ার ক্যাপ কারখানায়

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার মতিহারা গ্রামে গড়ে উঠেছে হেয়ার ক্যাপ কারখানা। আর এই কারখানায় প্রায় ৩৫০ জন নারী শ্রমিকের কর্মস্থল হয়েছে। কারখানাটিতে হেয়ার ক্যাপ তৈরি করে চিন দেশে রপ্তানি করছেন কর্তৃপক্ষ। দেশের অর্থনীতি বৃদ্ধির পাশাপাশি লাভবান হচ্ছে স্থানীয় বেকার নারীরা। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) মতিহারা গ্রামের হেয়ার ক্যাপ কারখানাটি ঘুরে দেখা য়ায়, কর্মঠো নারীরা মনের আনন্দে, মনোযোগ সহকারে কাজ করছেন তারা এই কারখানায়। তাদের কাজের গতি দেখে মনে হচ্ছে নিজেদের পাশাপাশি দেশকেও এগিয়ে নিয়ে যাবে। হিলি-নবাবগঞ্জ একটি সীমান্ত এলাকা, এখানে নেই কোন নারীদের কর্মসংস্থা। হিলি আরনু জুট মিলের পর এবার গড়ে উঠেছে হেয়ার ক্যাপ কারখানা। পরুষের সাথে তাল মিলিয়ে নারীরাও সংসারের হাল ধরেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে কাজ করে। চার মাস আগে নবাবগঞ্জের মতিহারা গ্রামের গড়ে উঠে কারখানাটি। হেয়ার ক্যাপ কারখানাটিতে রয়েছে এক মনোরম পরিবেশ। বাড়িতে বসে থাকা নারীরা এখন সকাল হলেই সংসারের সকল কাজ শেষ করে, ছুটে আসে এই কারখানায়। শান্ত পরিবেশে মাথা নুয়ে কাজ করছেন তারা। সারা মাসে কাজ করে যে অর্থ এখান থেকে তারা উপার্জন করে, তা থেকে সংসারের অনেক অভাব দুর হয় নারী শ্রমিকদের। কথা হয় একজন নারী শ্রমিক আফরোজা বেগমের সাথে, তিনি বলেন, আমার স্বামী একজন ভ্যান চালক, তার স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে খুব হিমশিম খাচ্ছিলাম। যেদিন থেকে এই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছি, সেদিন থেকে আমার সংসারে আর কোন অভাব নেই। একজন স্কুল ছাত্রী বলেন, করোনার কারণে এখন আমাদের স্কুল বন্ধ রয়েছে। বাড়িতে আর কত বসে থাকি, তাই নিজ গ্রামে এমন একটা নারীদের কর্মস্থল তৈরি হয়েছে। এখানে কাজ করে সময় কাটার পাশাপাশি যা আয় হচ্ছে, তা দিয়ে বাবাকে অনেক সহযোগিতা করতে পারছি। নারী শ্রমিক মমেনা বেগম বলেন, স্বামীর একার রোজগার দিয়ে সংসার চলানো অসুবিধা হয়। এখন আমি এখানে কাজ করে ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ যোগাতে আর অসুবিধা হচ্ছে না। সব মিলে বেশ ভাল আছি। বেশ কয়েক জন নারী শ্রমিকরা বলেন, পরুষের সাথে তাল মিলিয়ে আমরাও সংসারের হাল ধরতে পারি। সংসার, সমাজ ও দেশকে এগিয়ে নিতে আমরা কাজ করছি। আমরা সাধারণ মানুষ, সংসারের চাহিদা মেটাতে স্বামীরা একা কুলে উঠতে পারছেন না। তাই সংসারের চাহিদা পুরন করতে আমরা ও কাজ করছি। এখান থেকে মাসে যে আয় হচ্ছে তা দিয়ে আমরা অনেক ভাল আছি। হেয়ার ক্যাপ কারখানার ৫ জন নারী সুপার ভাইজারের সাথে কথা হয়, তারা বলেন, এই কারখানা আমরা ৫ জন সুপার ভাইজার রয়েছি, সকল শ্রমিকদের সাথে আন্তরিকতার সহিত কাজ করছি। বিভিন্ন বিষয়ে তাদের সহযোগিতা করে, কাজ বুঝিয়ে নিচ্ছি। আমরা চেষ্টা করছি, কারখানার প্রোডাকশন বাড়াতে। যত প্রোডাকশন বাড়বে তত শ্রমিকসহ মালিক লাভবান হবে। হেয়ার ক্যাপ কারখানার মালিক তরিকুল ইসলাম বলেন, নিজেকে স্বাবলম্বী করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন লক্ষ্যে ও স্থানীয় নারীদের কর্মক্ষমতা বাড়ার জন্য এই কারখানাটি তৈরি করেছি। এলাকায় পড়ে থাকা চুল সংগ্রহ করে, শ্রমিকদের দিয়ে সেগুলো বাছাই করে, এই হেয়ার ক্যাপ তৈরি করছি। হেয়ার ক্যাপগুলো চিন দেশে রপ্তানি করছি। প্রোডাকশনের উপর শ্রমিকরা টাকা পাচ্ছে, যে যত বেশি প্রোডাকশন দিতে পারছে, তারা তত বেশি বিল তুলতে পারছে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান করোনার কারণে কারখানায় স্বল্প শ্রমিক দিয়ে কাজ করছি। মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব শেষ হলে কারখানার কাজের গতি বৃদ্ধিসহ শ্রকি সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। এছাড়া আরও এমন কারখানা তৈরি করার উদ্যোগ হাতে আছে। দিনাজপুর ৬-আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক জানান, সীমান্তবর্তী এলাকা হিলি ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় দুইটি কারখানা গড়ে উঠেছে। হিলি আরনু জুট মিলে হাজার খানেক নারী-পরুষ কাজ করে জীবিকা নিরবাহ করছে। বর্তমান নবাবগঞ্জ উপজেলার মতিহারা গ্রামেও একটা নারী শ্রমিকের কর্মস্থল তৈরি হয়েছে। এই সব উদ্যোক্তাদের আমি অভিনন্দ জানায়, পাশাপাশি তাদের সর্বিক সহযোগিতা আমি করবো। এছাড়া যদি আরও কেউ এমন কর্মকান্ড হাতে নেয়, তাদেরও আমি সহযোগিতা করবো।

 

Comments: