হেফাজতী তাণ্ডব

Publish: 2 weeks ago ( 1281)

অনলাইন ডেস্ক :

  • মদদ ছিল বিএনপি-জামায়াতের
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সরকারী-বেসরকারী অফিসে হামলা, অগ্নিসংযোগ
  • মাথা ফাটল ওসির
  • প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর

জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ হরতালে সারাদেশে তাণ্ডব চালিয়েছে হেফাজত নেতাকর্মীরা। হেফাজতের রবিবারের হরতালে মদদ ছিল বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের। হরতালে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, নাশকতা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। দেশের বিভিন্নস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর, সরকারী বাসভবন, পুলিশ ফাঁড়ি, ক্যাম্পে হামলা, জলকামানসহ সরকারী স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও তাণ্ডব চালিয়ে রণক্ষেত্রে পরিণত করা হয়েছে। আত্মরক্ষার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুলি, টিয়ারগ্যাস ও লাঠিচার্জ করে সংঘবদ্ধ উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে দুজন নিহত এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম সড়কে মাতুয়াইলের সাইনবোর্ড এলাকায় একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের পুলিশের এক ওসির মাথা ফাটিয়ে দেয়াসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বহু সদস্যকে আহত করা হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় আক্রমণ ও আগুন দেয়া হলে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালে পাঁচজন নিহত হওয়ার প্রতিবাদে সারাদেশে হরতাল ডাকে হেফাজতে ইসলাম। হরতালের আগের দিন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমকে ব্যবহার করে হেফাজতে ইসলাম সন্ত্রাসের তাণ্ডবলীলা চালানোর মধ্য দিয়ে হরতালের ডাক দেয়। তবে হরতালের দিনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির লোকজন হরতালের বিরুদ্ধে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে। রিপোর্টটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন স্টাফ রিপোর্টার ও নিজস্ব সংবাদদাতা ও সংবাদদাতারা।

রবিবার হেফাজতে ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনকালে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিভিন্নস্থানে সরকারী-বেসরকারী গুরুত্বপূর্ণ অফিস, আওয়ামী লীগ কার্যালয় ও বাড়িঘরে ব্যাপক হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। এর ফলে জেলায় অরাজক অবস্থার সৃষ্টি হয়। আলামিন (২০) ও আশিক (৩৫) নামে দুজন নিহত হয়। এ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দশে। শহরজুড়ে থমথম অবস্থা বিরাজ করছে। হেফাজতের সশস্ত্র কর্মীরা বেলা ১১টার পর থেকে শহরের হালদারপাড়ার জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়, জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহীর গাড়িসহ তিনটি মোটরসাইকেল, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ পৌর মিলনায়তন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, পৌরসভা ভবন, পৌরসভা গ্যারেজের তিনটি গাড়ি, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বর, জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গণগ্রন্থাগার, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস, আশুগঞ্জ টোলপ্লাজার বুথে আগুন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের বাসভবন ও তার শ্বশুরবাড়ি, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল, সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন শোভনের বাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। শহরের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত উন্নয়ন মেলার ৩২টি স্টলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব, ব্যাংক এশিয়া, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স, শহরের আনন্দময়ী কালীবাড়ির মন্দিরের মূর্তি, বিজয়নগর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম ভূইয়ার নিজস্ব অফিস, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাসিমা মুকাই আলীর শহরের হালদারপাড়ার বাসভবন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র, দলিল লেখক সমিতি, ঠিকাদার খাইরুল আলমের বাসভবনে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে হামলার সময় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক জনকণ্ঠের স্টাফ রিপোর্টার রিয়াজ উদ্দিন জামি গুরুতর আহত হন। এদিকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শহরের পৈরতলা, জেলা পুলিশ লাইন, কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক বিশ^রোড এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বেলা ১১টার দিকে শহরের পীরবাড়িতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনে বিক্ষোভকারীরা হামলা চালিয় ভাংচুর করে। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘণ্টাব্যাপী পুলিশ রাবার বুলেট ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। হামলা চলাকালীন সময়ে শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্যকে দেখতে পাওয়া যায়নি। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থানা মসজিদ থেকে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে থানায় হামলা না চালানোর জন্য মাদ্রাসা ছাত্রদের অনুরোধ জানানো হয়।

নিরাপত্তার কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট, নোয়াখালীর পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। সকাল নয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে ভাংচুর চালানো হয়। খুলে ফেলা হয় রেললাইনের নাট-বল্টু। লাইনের ওপর কংক্রিটের স্ল্যাবও ফেলে রাখে হরতাল সমর্থকরা। আশুগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাঝখানে ১৮ নম্বর রেল সেতুতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

গত শনিবার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে সব ধরনের আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তঃনগর ট্রেনে যাত্রী ওঠানামার সময় নাশকতা হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই যাত্রাবিরতি বন্ধ রাখা হয়েছে। সকালে হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা সাজিদুর রহমানের নেতৃত্বে জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রেসক্লাবের সামনে এক সংক্ষিপ্ত সভা করে। বক্তব্য রাখেন হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা ও জেলার সাধারণ সম্পাদক ও জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মোবারক উল্লাহ, জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মাওলানা শামসুল হক, কওমি প্রজন্ম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুখপাত্র হাফেজ মুফতি এরশাদুল্লাহ প্রমুখ।

চট্টগ্রামে হরতালে সাড়া মেলেনি ॥ ঢাকায় বায়তুল মোকাররমে সংঘর্ষ এবং কয়েকটি এলাকায় প্রাণহানির ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে সাড়া মেলেনি চট্টগ্রাম মহানগরীতে। রবিবার সকাল থেকেই সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়। বড় ধরনের কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে হাটহাজারী মাদ্রাসা এলাকায় হরতালকারীদের অবস্থান এদিনও ছিল। সড়কে ইট এবং বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে দেয়াল সৃষ্টি করায় চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি এবং ফটিকছড়ির নাজিরহাট সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রেলস্টেশনে হামলা ও নাশকতার কারণে বন্ধ রাখা হয় চট্টগ্রাম-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল। সম্ভাব্য ঘটনার আশঙ্কায় নগরী ও জেলার সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

রবিবার সকালে বন্দরনগরীর সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল প্রায় স্বাভাবিকের মতোই পরিলক্ষিত হয়। বাস, হিউম্যান হলার, অটোরিক্সাসহ সকল ধরনের যানবাহনই চলেছে। দিনের শুরুতেই একটু কম দেখা গেলেও বেলা গড়াতেই নগরী ফিরে পায় স্বাভাবিক কর্মদিবসের চেহারা। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা, বৃহত্তর নোয়াখালী, কুমিল্লা, রাঙ্গামাটিসহ সকল রুটের দূরপাল্লার গাড়িগুলো চলাচল করেছে। শুধু খাগড়াছড়ি রুটে যানবাহন চলাচল করতে পারেনি হেফাজত কর্মীদের বাধার কারণে। গত শুক্রবার বিকেল থেকেই হাটহাজারীতে একই অবস্থা বিরাজ করছে।

ফটিকছড়িতে লাঠি নিয়ে অবস্থান ॥ হেফাজতের ডাকে ধর্মঘটের ফলে রবিবার সকাল থেকে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা পরিলক্ষিত হয় সাধারণের মধ্যে। চট্টগ্রাম-নাজিরহাট মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে হেফাজতের কর্মীদের লাঠি নিয়ে অবস্থান করতে দেখা যায়। চট্টগ্রাম-নাজিরহাট-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান ফটকের সামনে দেয়াল নির্মাণ করে ও কালীবাড়ির সামনে সড়ক খুঁড়ে ব্যারিকেড দেয়া হয়। ফলে সবকটি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। তবে হাটহাজারীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে গাড়ি চলাচল স্বাভাবিক ছিল। বিভিন্ন বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে দোকানপাট বন্ধ থাকে। শনিবার দিনভর নাজিরহাটে ডেমু ট্রেন আটকে থাকার পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ লাইনে ট্রেন চলাচল রবিবার থেকে সাময়িক বন্ধ রেখেছে।

পটিয়ায় যান চলাচল ব্যাহত ॥ হরতালের সমর্থনে রবিবার সকালেই মূল সড়কে অবস্থান নেয় হেফাজতকর্মীরা, যাদের প্রায় সকলেই মাদ্রাসা ছাত্র। তারা থানার মোড় থেকে পোস্ট অফিস এলাকা পর্যন্ত রাস্তায় অবস্থান নেয়। এতে অভ্যন্তরীণ যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। তবে পটিয়া বাইপাস সড়ক উন্মুক্ত থাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দূরপাল্লার গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করেছে। পটিয়া সদর এলাকার মূল সড়কে সকাল থেকে অবস্থান থাকলেও বড় ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেনি।

রাজশাহীতে বিআরটিসির দুই বাসে আগুন ॥ রাজশাহীতে হরতালের কোন ছাপ না থাকরেও ভোরের আলো ফোটার আগেই দুটি বিআরটিসি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃৃত্তরা। রবিবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নগরীর নওদাপাড়া ট্রাক টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নেভায়। এতে অন্তত আট লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।

আট শিবিরকর্মী গ্রেফতার ॥ এদিকে রাজশাহী নগরী থেকে আট শিবিরকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জে পুলিশসহ আহত ৩০ জন ॥ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের সিরাজদিখানে নীমতলায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের ডাকা হরতালে হেফাজত, পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে রবিবার দুপুর ১২টায় সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ, সেকেন্ড অফিসার ও হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীরসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। হেফাজতে ইসলাম রবিবার সকাল ১০টার দিকে হরতালের সমর্থনে এক্সপ্রেসওয়ের নীমতলায় অবরোধ করলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসাইন জানান, এক্সপ্রেসওয়ের নীমতলায় হেফাজতে ইসলাম হরতালের সমর্থনে লাঠিসোটা নিয়ে মহাসড়কটি অবরোধ করে। এ সময় ব্যস্ততম মহাসড়কটিতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। বেলা ১২টার দিকে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে সিরাজদিখান থানার ওসি এসএম জামাল উদ্দিনের মাথায় ইট লেগে মাথা ফেটে যায়। সেকেন্ড অফিসার সেকান্দর আলীর নাক, মুখ, ইট ও লাঠির আঘাতে ফেটে যায়। তাদের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।

ভৈরবে ট্রেনসহ যান চলাচল বন্ধ ॥ রবিবার ভৈরব আলেম উলামা ও তৌহিদী জনতা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড়ে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করেছে। ভোর থেকে বিভিন্ন যান বাহন চলতে থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তুমুল প্রতিরোধের মুখে ভৈরব থেকে দূর পাল্লার যানবাহনসহ কোন ধরনের যান চলাচল করেনি। এ সময় তারা মোদি বিরোধী স্লোগান দেয় এবং নিহতদের বিচার দাবি করেন। অপর দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর সোনার বাংলা ট্রেনটি সকাল নয়টার দিকে ব্রাহ্মণ বাড়িয়ার আউটার সিগন্যালের কাছে হরতালকারীদের কবলে পড়ে।

কিশোরগঞ্জে তাণ্ডব ॥ হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতাল ঘিরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষে দিনভর উত্তপ্ত ছিল কিশোরগঞ্জ। রবিবার বেলা ১২টার দিকে কয়েক শ’ হেফাজত নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে হামলা চালায়। এ সময় তারা অফিসের ভেতরে থাকা বঙ্গবন্ধু ও শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামসহ জাতীয় চার নেতার ছবি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি, চেয়ার-টেবিল, আসবাবপত্র এবং সাইনবোর্ড ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে কার্যালয়টিতে হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় শহরজুড়ে হরতাল সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

সিলেটে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ॥ সিলেটে হরতাল চলাকালে হেফাজত ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও তিন দফা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরীর বন্দরবাজারস্থ কামরান চত্বরে সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে ৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুজন ছাত্রলীগ কর্মী।

নারায়ণগঞ্জে সাংবাদিক-পুলিশসহ আহত ২০ ॥ হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালে সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সিদ্ধরগঞ্জের মাদানীনগর, মৌচাক, শিমরাইলের ইউটার্ন, সাইনবোর্ড ও সানাড়পাড় এলাকায় পুলিশ র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হরতাল সমর্থদের দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার বেলা ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড, মাদানীনগর ও সানারপাড় এলাকায় পুলিশ হরতাল সমর্থকদের রাস্তা থকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

হবিগঞ্জে ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা ॥ হবিগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় ২৩ জনের নাম উল্লেখসহ ৪০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ মডেল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাসুক আলী এ তথ্য জানান। এর আগে বিকেলে সদর মডেল থানার এসআই হারুনুর রশিদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ ঘটনায় গ্রেফতার ছয়জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজমিরীগঞ্জে ওসিসহ আহত ৫ ॥ হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে হেফাজত-পুলিশ সংঘর্ষে ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ সময় ওসির গাড়ি ভাংচুর করেন বিক্ষোভকারীরা। আহত পুলিশ সদস্যদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। রবিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া হেফাজতের হরতালের কর্মসূচী পালনের সময় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ভাঙ্গা থানায় হামলা ভাংচুর- তিন শ’ জনকে আসামি করে মামলা ॥

নিজস্ব সংবাদদাতা ফরিদপুর থেকে জানান, জেলার ভাঙ্গা থানায় শনিবারের হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় অজ্ঞাত ৩শ’ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছে পুলিশ। পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সাতজনকে গ্রেফতার করেছে।

Comments: