গাছে পেরেক ঠুকিয়ে প্রচার-প্রচারণা, হুমকির মুখে প্রাকৃতিক পরিবেশ

গাছে পেরেক ঠুকিয়ে চলছে বিভিন্ন পণ্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিজ্ঞাপন ও প্রচার-প্রচারণা। এসব ব্যক্তি বা পণ্য প্রতিষ্ঠানের প্রচারের অবলম্বন হয়েছে মাগুরা জেলার প্রতিটি উপজেলার হাট-বাজারসহ সড়কের পাশের দৃষ্টিনন্দন গাছগুলো। একেকটি গাছে টানানো হয়েছে নানারকম প্রচারমূলক সাইনবোর্ড, পোস্টার, ফেস্টুন ও ব্যানার। ফলে করাত ভাঙ্গার ভয়ে এসব গাছ ছিড়াই করতে চান না সমিল মালিকেরা। পরিবেশবিদদের মতে, পেরেক ঠুকে এই ্প্রচারের জন্য ক্ষতি হচ্ছে গাছগুলোর এবং হুমকির মুখে পড়ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।জেলা ও উপজেলার মেইন সড়কসহ প্রতিটি সড়কের দু’পাশের শত শত গাছের এখন বেহাল দশা। এ গাছগুলো এখন প্রচারমূলক কাজের মাধ্যম হয়ে দাড়িয়েছে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। বিভিন্ন ব্যক্তির প্রচারমূলক ব্যানার, ফেস্টুন, কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেট স্কুলে ছাত্রভর্তি, চিকিৎসা সেবা, হারবাল ওষুধ বিক্রি, টু-লেটসহ নানা ধরণের প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্র উপজেলার এই দৃষ্টিনন্দন এই গাছগুলো।এ বিষয়ে সমিল মালিক আবজাল এবং ফার্নিচার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম লুলু বলেন, রাস্তার পাশে বা হাট-বাজারের গাছে পেরেক ঠুকানো থাকে তাই এসব গাছ ছিড়াই করতে গেলে আমাদের সমস্যা হয়। করাত ভেঙ্গে যায়। এসব গাছের কাঠের গুনগতমান নষ্ট হয়। ফলে ফার্নিচার বানালে টেকসই কম হয়।জেলা সামাজিক বনায়ন কর্মকর্তা (ফরেস্টার) তফনন্দ্রনাথ সরকার বলেন, আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য গাছের পরিচর্যা করা দরকার। একটা দেশের মোট ভ‚মির ২৫ ভাগ যেখানে বনভ‚মি থাকা প্রয়োজন। সেখানে আমাদের দেশে মাত্র ১৩ থেকে ১৪ ভাগের মধ্যে বনভ‚মি আছে। আবার যে গাছগুলো আছে বা লাগানো হচ্ছে তাতে লোহা দিয়ে ফেস্টুন, সাইনবোর্ড লাগানো হচ্ছে। এই লোহা ঠুকানোর ফলে গাছের আঠা ঝরে সতেজ বাকল নষ্ট হয়। ফলে কাঁঠের গুনতমান নষ্ট হয়। আনেক সময় পেরেক ঠুকা স্থানে পঁচন ধরে গাছ মারাও যায়। তাই গাছ যাতে বিনা বাধায় বেড়ে উঠতে পারে সেই পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ জন্য তিনি গাছে পেরেক না ঠুকাতে অনুরোধ করেন।মহম্মদপুর বার্তার সম্পাদক, বিশিষ্ট নাট্যকার ও এমফিল গবেষক সালাহউদদীন আহমেদ মিলটন বলেন, মানুষ নিজের প্রয়োজনে গাছে ধাতব পেরেক বা টিনের পাত লাগিয়ে থাকে। ফলে গাছের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। খাদ্য গ্রহনে বাধাপ্রাপ্ত হয়। গাছের শরীরে লোহা থাকার কারণে গাছ পচে যায়, দূর্বল হয় এবং ভেঙে যায়।মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রামানন্দ পাল বলেন, গাছ সতেজ থাকা মানে পরিবেশ সতেজ থাকা। গাছ সতেজ থাকা মানে মানুষ সতেজ থাকা। এদানীং দেখা যায় সারাদেশেই পেরেক দিয়ে গাছে শুভেচ্ছাবানীসহ নানা রকম ব্যানার-ফেস্টুন লাগানো হচ্ছে। আমি উপজেলার সকলকেই অনুরোধ করবো গাছে পেরেক না ঠুকিয়ে অন্য উপায়ে ব্যানার, সাইনবোর্ড, ফেস্টুন লাগানোর জন্য।উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবু আব্দুল্লাহেল কাফি জানান, গাছ পরিবেশের সৌন্দর্য বর্ধন ও জীবন ধারনের জন্য কাজ করে। অথচ বিভিন্ন প্রকার ব্যানার-ফেস্টুনে ঢাকা থাকে এ গাছগুলো। যার কারণে পরিবেশের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ব্যহত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে অনুরোধ করছি অন্য কোন উপায়ে এ ব্যানার-ফেস্টুন টানানো জন্য। বাঁশ দিয়ে বা অন্য উপায়ে যদি টানানো যেতে পারে। তাহলে আমরা পাব সবুজ সতেজ গাছ। পাব তরতাজা নিঃশ্বাস।  

 

Comments: