বাসের ই-টিকিটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংযোজনের দাবি

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেছেন, টিকিট মানে সেবা মূল্যের রশিদ। আন্তর্জাতিক ক্রেতা-ভোক্তা অধিকার আইন অনুযায়ী প্রতিটি পণ্য বা সেবামূল্যের রশিদ প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই বাসের ই-টিকিটে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংযোজন করতে হবে।

 

বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি হলে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি আয়োজিত 'ঢাকা সিটিবাস সার্ভিসে ই-টিকিটিং যাত্রীদের প্রত্যাশা' শীর্ষক আলোচনা সভায় এ দাবি জানান তিনি। মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন পর নগরীর সিটি সার্ভিসের বাসে ই-টিকেটিং সেবা চালু হয়েছে। ফলে প্রতিটি টিকিটে টিকিট প্রদানকারী বাসের নাম, বাসের নিবন্ধন নম্বর, যাত্রা ও গন্তব্যের নাম, দূরত্ব, ভাড়ার অংক, ভ্রমণ তারিখ ও অভিযোগ কেন্দ্রের নম্বর থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে প্রদত্ত ই-টিকেটিং ব্যবস্থায় এসব পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। কোনো কোনো টিকিটে শুধুমাত্র ভাড়ার অংক লেখা রয়েছে। ফলে এসব টিকিট দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলে যাত্রীদের প্রতিকার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

 

তিনি বলেন, ভাড়া নির্ধারণের শর্ত অনুযায়ী চালক-সহকারীর নিয়োগপত্র, বেতন ও ওভারটাইম নিশ্চিত করা জরুরি।। লক্কড়-ঝক্কড় বাস উচ্ছেদ ও বাসের সার্বিক পরিবেশ উন্নতসহ আধুনিক বিশ্বের আদলে গড়ে তুলতে হবে সিটি সার্ভিস। সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করে বাসের জন্য আলাদা ডেডিকেটেড লেইনের ব্যবস্থাসহ নানামুখী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে মানুষ ধীরে ধীরে বাসমুখী হবে। মোটরসাইকেলের পাশাপাশি ছোট ছোট পরিবহনের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা কমে যাবে, ফলে যানজট ও যাতায়াতের ব্যয় কমে আসবে।

 

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ই-টিকেটিং উন্নত বিশ্বে অনেক আগে চালু হলেও ৪ বছর আগে বাংলাদেশে চালু হয়েছে। রাজধানীর বাসে ভাড়া নৈরাজ্য দূরীকরণে ই-টিকেটিং চালু করা হয়েছে। ফলে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের পাশাপাশি বাসে বাসে অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে। রাজধানীতে ৩০ নভেম্বরের পর থেকে এসকল বাস বন্ধ হয়ে যাবে। দৃষ্টিনন্দন করা হবে সব ধরনের বাস সার্ভিস। বিআরটিএ'র ঢাকা বিভাগের (ইঞ্জিনিয়ারিং) উপ-পরিচালক স্বদেশ কুমার দাশ বলেন, বিআরটিএ রাজধানীর বাসে সরকার নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর করার লক্ষ্যে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে আসছে। আগামীতে এই কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

 

অন্যান্যরা বলেন, পরিবহন খাতে দীর্ঘ দিনের পুঞ্জিভূত সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি এই খাতের আমুল সংস্কার করা না গেলে, ই-টিকেটিং সিস্টেমে সিটিবাস সার্ভিস ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। কেননা ই-টিকিটে দূরুত্ব অনুযায়ী ভাড়া আদায় নিশ্চিত করার কারণে কমে আসছে ভাড়া, ফলে বাস মালিকের আয়ও কমে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বাসে বাসে কোম্পানির জিপি ও অদৃশ্য খাতের রুট খরচ বন্ধ করা না গেলে অনেক পরিবহন মালিককে লোকসান দিয়ে বাস চালাতে হবে। যানজট, চাদাঁবাজীসহ বিভিন্ন কারণে দীর্ঘদিন ধরে সিটি সার্ভিসের বাস খাতে নতুন বিনিয়োগ আসছে না। ফলে লোকসানের কারণে এই খাত আগামী দিনে গভীর সংকটের শঙ্কা রয়েছে।

 

আলোনায় আরও বক্তব্য রাখেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটন, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী, কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবুল কালাম আজাদ, নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ প্রমুখ।

Comments: