উন্নয়নের কথা বলে সরকার দেশকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে : নুর

উন্নয়নের কথা বলে সরকার দেশকে দুর্ভিক্ষের খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর।

 

বুধবার (২৩ নভেম্বর) বিকেলে সংবিধান সংরক্ষণ কমিটি ও বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার পরিষদের যৌথ আয়োজনে সুপ্রিম কোর্ট বার অডিটোরিয়ামে 'বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে জনগণের সরকার' শীর্ষক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। নুরুল হক নুর বলেন, হুমকি ধমকি দিয়ে গণজাগরণ ঠেকানো যাবে না। সরকার পাচারকারীদের কোনো বিচার করছে না।

 

কারা সিন্ডিকেট করে জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় সরকার জানে, কিন্তু সরকারের তাদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষমতা নেই। এই সরকার ভয়ে আছে ক্ষমতা হারালে তাদের কী পরিণতি হয়। কারণ তারা বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনাবাহিনীর চৌকশ অফিসারদের হত্যা করেছে, ২০১৩ সালে আলেম ওলামাদের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। আমরা সরকারকে বলব, ভয়ের কিছু নেই, কোনো প্রতিশোধ নেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী দোষীদের বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার অবৈধ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে সৎ পুলিশ কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাচ্ছে। অথচ যেসব পুলিশ বিরোধী দলের নেতাদের গুলি করে মারছে, তাদের কোনো বিচার করছে না। ক্ষমতার পরিবর্তন হলে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো সকল কর্মকর্তাদের পরিপূর্ণ সম্মান ও সুবিধা দিয়ে তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

 

তিনি বলেন, দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের অনাস্থা তৈরি হচ্ছে। যে দেশে প্রধান বিচারপতিকে জোর করে বন্দুক ঠেকিয়ে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় সে দেশের বিচার ব্যবস্থা কী রকম হয়, তা দেখতেই পাচ্ছি আমরা। এখন কোর্টের নির্বাচনগুলোতেও দরজা ভেঙে ভোট ডাকাতির মতো নির্বাচন হয়। অন্যসব পেশা থেকে আইনজীবীরা এখনও কিছুটা স্বাধীন রয়েছেন। সরকার সব প্রতিষ্ঠানে দলকানা, অযোগ্য সব লোক নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে।

 

নুর বলেন, সরকার রিজার্ভ নিয়ে মিথ্যাচার করছে, সঠিক তথ্য দিচ্ছে না। সরকার রিজার্ভের যে হিসাব দিচ্ছে আমার ধারণা রিজার্ভ তার অর্ধেক হবে। সরকারের রিজার্ভ ১৩/১৪ বিলিয়ন কারণ রিজার্ভের এই অবস্থা হলে আইএমএফকে ডাকে, এলসি বন্ধ হয়ে যায়। বাস্তবেও তো তাই হচ্ছে। এই সরকারকে কেউ বিশ্বাসও করে না,  ১০৪% ভোট পড়েছে, মরা মানুষ ভোট দিয়েছে। সেটাকে সন্দেহ করেছে মানুষ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আসলে সময় লাগবে ধ্বংস করা প্রতিষ্ঠানগুলো ঠিক করতে, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে, তারপরে ইলেকশন করে জনগণের সরকার করা যাবে, পাচার করা অর্থ ফিরে আনা যাবে।

 

সংবিধান সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুবের সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন নির্বাহী সভাপতি এবিএম রফিকুল ইসলাম রাজা, সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহসীন রশীদ, অ্যাডভোকেট এ বি এম ওয়ালিউর রহমান খান, ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন, আইনজীবী অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক ব্যারিস্টার জীসান মোহসীন, সহ-সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, অ্যাডভোকেট খাদেমুল ইসলাম, ড. শোয়েব মাহমুদ, অ্যাডভোকেট এরশাদুল বারী খন্দকার প্রমুখ।

 

পুনরুত্থান/এসআর/মিজান/সোহান
 

Comments: