পেকুয়া মকবুল আহমদ চৌধুরী ওয়াকফ এস্টেটের মতোয়াল্লির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

পেকুয়া মকবুল আহমদ চৌধুরী ওয়াকফ এস্টেটের মতোয়াল্লির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।জানা যায়, মকবুল আহমদ চৌধুরী ১৮২৮ সালে এলাকার লোকজন নামাজ কালাম পড়ার সুবিধার্থে চৌমুহনীস্থ বাড়ীর পাশে নিজের নামে একটি মসজিদ স্থাপন করেন। তিনি নিজেই মতোয়াল্লি থাকিয়া মসজিদ শাসন সংরক্ষণ করতেন।মসজিদ পরিচালনার জন্য তিনি ২৩ ডিসেম্বর ৩৬ ইং রেজিঃযুক্ত ১৩২৯ নং দলিলমুলে ৬৭ একর ৬৫.৫ শতক জমি ওয়াকফ করেন। ১৯৫৬ সালে মকবুল আহমদ চৌধুরী প্যারালাইসিজ রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মৃত্যুর পর তার পুত্র মৌলভী নুরুল হক চৌধুরী মোতোয়াল্লি নিযুক্ত হন। তিনি মোতোয়াল্লি হয়ে নিজ নামে মসজিদের জমি এম আর আর নং ৯০২,৮৯৭,৯২৮ এবং বেশ কিছু জমি জমা নিজে জমিদার সেজে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গকে প্রজাপত্তন করেন। তথ্য তালাশে এম আর আর নং ৮৯৬ তে ১২-৩৪ একর জমি প্রজা পত্তনের খতিয়ান পাওয়া যায়। যাহা ওয়াকফ দলিলের ১০ নং তফশীলের জমি। তিনি ওই সম্পত্তি ই. সি ভুক্ত না করে নিজ নামে এম আর আর মুলে ৭ বছর ভোগ দখল করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেন। পরে প্রমাণ মেলায় তা ই.সি ভুক্ত করেন। দুরলোভে বষিভুত হয়ে টাকার বিনিময়ে মসজিদের জমি অন্য ব্যক্তির নামে ও নিজ নামে ১৩ একর ৩৪ শতক জমি বি এস ৮৬৭ নং খতিয়ানে রের্কড করান। এমদাদুল হক চৌধুরী নামিয় বন্দোবস্তি কৃত জমির পরিমান ৩.৩০ একর যাহা মকবুল আহমদ চৌধুরী কর্তৃক ওয়াকফ কৃত। উক্ত জমি হতে ৩.৩০ একরের স্থলে ২.০৭ একর জমি নিজ নামে রের্কড করিয়ে বাকী জমি অর্থের বিনিময়ে অন্য ব্যক্তির নামে রেকর্ড করান। মৌলভী নুরুল হক চৌধুরী মৃত্যুর পর ১৯৯৮ সালের ৪ মার্চে তৎ পুত্র জামায়াত নেতা সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী জালজালিয়াতের মাধ্যমে মতোয়াল্লী হন। পিতার উত্তরসূরী হিসাবে একই কায়দায় ওয়াকফের সম্পত্তি স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করে মসজিদের উন্নয়ন না করে টাকা আত্মসাৎ করে। এ আত্মসাৎ এর অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থানীয় চেয়ারম্যান, ইমাম, মাদ্রাসার সুপার, স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিরা ২০০৪ সালে ৭ জুলাই মতোয়াল্লি বাতিল চেয়ে ওয়াকফ প্রশাসকের কাছে আবেদন করে। বি এন পি ও

জামায়াত  ততা জোট সরকার ক্ষমতায় থাকায় প্রভাব বিস্তার করে ও আবেদনের কার্যকারিতা স্থাগিত করেন। ওয়াকফকৃত জমি  ও মার্কেট নিজে ভোগ করিয়ে আয় দিয়ে দ্বিতলও তিনতলা নিজেদের নামে মার্কেট নিমার্ণ এবং চট্টগ্রামে ফ্ল্যাট বাসা নিয়ে বিলাসবহুল জীবন যাপন করছেন মতোয়াল্লি সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী । এদিকে মসজিদে নামাজ আদায় করতে মসল্লিদের কষ্টের সীমা নেই। নামাজ পড়তে আসলে আতংকে থাকে মসল্লিরা কখন ছাদ ভেঙে মাথায় পড়ে। অভিযোগসূত্রে আরো জানা যায়, মৌলভী নুরুল হক চৌধুরী ও তার পুত্র সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরী মিলে ৭০ বছর মতোয়াল্লি থাকায় এবং ওয়াকফের সম্পত্তি নিজেদের দখলে থাকলেও কোন প্রকার মসজিদের উন্নয়ন করে নি। বর্তমানে মসজিদের করুন অবস্থা। তা দেখে স্থানীয় বেশ কয়েকজন ধর্মপ্রাণ মসল্লি তাদের আর্থিক অনুদান দিয়ে মসজিদের টাইলস এবং ফ্যান ও দরজা জানালা লাগানো হয়েছে। কিন্তু মসজিদের নাম ভাগিয়ে মসজিদের উন্নয়ন না করে অনুদানের টাকা লুটে খাচ্ছে মতোয়াল্লি। এমন কি মসজিদের জায়গায় মার্কেট নিমার্ণ করে দোকান সালামীর টাকা ও দোকান ভাড়া ভোগ করছে। ওয়াকফের সম্পত্তি বিক্রি করছে করছে বর্তমানে কবরস্থানের জায়গা বিক্রি করে দিয়েছে। কবরস্থানে জায়গায় দোকান নিমার্ণ করার চেষ্টা করলে অন্য ওয়ারিশগন এতে বাধা দেয়। মতোয়াল্লির কার্যক্রম স্থগিত করত নতুন পরিচালনা কমিটি চেয়ে মতোয়াল্লির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ এনে মৃত সিরাজুল হক চৌধুরীর পুত্র আলহাজ্ব জাকের হোসেন চৌধুরী গং বাদী হয়ে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযােগ দাখিল করেন। জেলা প্রশাসক অভিযোগ আমলে নিয়ে ওয়াকফ প্রশাসক বরাবর অনুলিপি দেন। অভিযোগ খানা আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগের অনুলিপি দেন। অভিযোগ খানা আমলে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থাপন করলে উপস্থিত স্থানীয় সাংসদ জাফর আলম শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ইউএনও এবং ওসিকে নিদের্শ প্রদান করেন। এদিকে ওয়াকফ প্রশাসক অভিযোগখানা আমলে নিয়ে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ককসবাজার ওয়াকফ পরিদর্শককে দায়িত্ব দেন এবং উভয় পক্ষকে নোটিশ জারি করেন। এদিকে বাদী জাকের হোসেন চৌধুরী জানান আমি ও আমার চাচাত ভাই হিরু মিয়া গুরুতর অসুস্থ।  চট্টগ্রাম শহরে চিকিৎসাধীন আছি।  তবে তদন্তের দিন উভয় পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা দেখা দিয়েছে।এদিকে অভিযুক্ত সরফরাজ আল নেওয়াজ চৌধুরীর ব্যবহারকৃত মুঠোফোনে কল দিলে সংযোগ না পাওয়া বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোতাছেম বিল্লাহ অভিযোগের  সত্যতা জানিয়ে বলেন বিভিন্ন কাজপত্র আমার দপ্তরে জমা দিয়েছে এক পক্ষ। এটি সম্পন্ন ওয়াকফ এস্টেটের কাজ আমরা সহযোগিতা করতে পারি।এ ব্যাপারে কক্সবাজার ওয়াকফ পরিদর্শক খালেদ হোসেন জানান তদন্ত করার জন্য উভয় পক্ষকে জানানো হয়েছে।অভিযোগ সবগুলোর তদন্ত করবো। ওয়াকফের জায়গা সহ বিভিন্ন অভিযোগ আছে সবগুলো তদন্ত করে রিপোর্ট করা হবে।          

 

 

Comments: