promila ad
LATEST
সোনারগাঁওয়ে মোগরাপাড়া এইচ.জি.জি.এস সরকারি স্মৃতি বিদ্যায়তনের সাবেক ধর্মীয় শিক্ষক কাদির মৌলভীর উন্তেকাল বগুড়ার শেরপুরের বারদুয়ারী হাটে টোল চার্ট উধাও নির্ভিক ও আদর্শবান সাংবাদিকতার প্রতীক খন্দকার মুনীরুজ্জামান -জনবন্ধু গোলাম মোহাম্মদ কাদের ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে তারেক জিয়ার জন্মদিন পালন হিলির সাংবাদিকরা পেলো কোভিড-১৯ এর সুরক্ষা সামগ্রী বঙ্গবন্ধু ছাত্র একতা পরিষদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী যুব লীগের নব নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক কে ফুলেল শুভেচছা অর্ধেকে নেমেছে হিলি বাজারে সবজির দাম ফরিদপুরে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর মামলায় ৫ আসামি জেলহাজতে ফ্রিল্যান্সাররা ‘ভার্চুয়াল আইডি কার্ড’ পাচ্ছেন বুধবার থেকে বিমানের বহরে অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ, ‘ধ্রুবতারা’ নাম দিলেন প্রধানমন্ত্রী

শেরপুরে আলুর বীজ নিয়ে ডিলার-ব্যবসায়ীর কারসাজি সিন্ডিকেটের জালে কৃষক

বগুড়ার শেরপুরে আলু বীজ নিয়ে ব্যবসসায়ী ও ডিলারদের সিন্ডিকেটে আলুর বীজের নিয়ন্ত্রণ ঐসব মহলের  কালো জালে আটকে থাকায় বাজারে দেখা দিয়েছে কৃত্রিম সঙ্কট। প্রান্তিক কৃষকের মাঝে তৈরি হয়েছে হতাশা। চলতি মৌসুমে বীজের অভাবে প্রান্তিক কৃষক ডিলার ও ব্যবসায়ীদের কাছে বার বার ধর্না দিয়েও পাচ্ছেন না বীজ। ফলে অনাবাদী থেকে যাওয়ার  আশংকা রয়েছে এ উপজেলার  বিপুল পরিমানের আলুর জমি। এ অবস্থায় চলতি বছর আলু চাষ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন চাষীরা। এদিকে অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলারদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা ওই সিন্ডিকেট ইচ্ছেমত দামে আলু বীজ বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। বনে যাচ্ছেন রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। এ অঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি বস্তা বীজ আলু ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।স্থানীয় কৃষি অফিসসুত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এই উপজেলায় দুই হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে বীজ লাগে দেড় মেট্রিক টন। সেই অনুযায়ী এই উপজেলায় বীজের প্রয়োজন তিন হাজার ৯৪ মেট্রিক টন। কিন্তু বরাদ্দ মিলেছে মাত্র এক হাজার ৪০০ মেট্রিক টন। যা অর্ধেকেরও কম। আর এসব বীজ বিক্রির জন্য প্রায় ৪৫ জন ডিলার রয়েছে। এর মধ্যে ডিএডিসির ১৮ জন, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের আটজন ও অন্য কোম্পানির ১৯ জন।অনুসন্ধানে জানা যায়, ডিলাররা উত্তোলন না করায় সরকারি বিএডিসির আলু বীজ এখনও বাজারে আসেনি। তাই ভালো ফলন পাওয়ার আশায় বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক সিড এন্ড এগ্রো এন্টারপ্রাইজের আলু বীজের দিকে কৃষক ঝুঁকে পড়েছেন। কিন্তু বাজারে এই কোম্পানিসহ অন্য কোম্পানির বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। সিন্ডিকেটের কব্জায় চলে গেছে ওইসব কোম্পানির আলু বীজ। তাই ডিলার ও ব্যবসায়ীদের দোকানে দোকানে ঘুরেও বীজ পাচ্ছেন না চাষীরা। তবে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিলেই মিলছে তাদের কাঙ্ক্ষিত আলু বীজ। ফলে আলু চাষের পরিবর্তে অন্য ফসল চাষের কথাও ভাবছেন কৃষক।শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের আলু চাষী মিলন বলেন, উপজেলার বেলঘড়িয়া বাজারে আলুর বীজ কিনতে যায়। বেলঘড়িয়া বাজারে রফিকুল ইসলাম ও মঞ্জু ব্রাক সিড আলু বীজের মূল ডিলার। তাদের দুই জনের মধ্যে প্রথমে ডিলার রফিকুল ইসলামের কাছে যাওয়া সেখানে কথা হয় ম্যানেজার সফিকুল ইসলামের সাথে, সে বলে আলু বীজ এর একটু সংকোট আছে, তবে আমরা কোম্পানির থেকে যত টন বীজ পেয়েছিলাম তার সতভাগ আলু চাষীদের মাঝে বিক্রি করেছি। তিনি আরও বলেন আমাদের কোন সাব ডিলার নেই। আরেক ডিলার মোঃ মঞ্জুর ঘরে গেলে সেখানে পাওয়া যায় ম্যানেজর শাহিন আলমকে। কথা হয় আলু বীজ সম্পর্কে। তার কাছ থেকে কিনতে চাওয়া হয় ব্রাক ব্যান্ডের আলুর বীজ। সে বলে ভাই আপনিতো শেষের দিকে আলুর বীজ কিনতে এসছেন, এখনতো আর ঐ কোম্পনির বীজ নেই। তবে আমি ব্রাক ব্যান্ডের আলুর বীজ সংগ্রহ করে দিতে পারবো টাকা একটু বেশি লাগবে। তার কথায় স্বীকার হলে সাথে সাথে ফোন দেয় তাদের দেওয়া ১৭টি সাব-ডিলারের মধ্যে একজন সাব-ডিলার আকরাম হোসেনকে ফোন দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করে দেয়। পরে তার কাছে গেলে তিনি ঐ কোম্পানীর আলু বীজের অধিকমূল্য। ব্র্যাকের ৪০ কেজি ওজনের আলু বীজ প্রতিবস্তা বি-গ্রেড দুই হাজার ৮০ টাকা ও এ-গ্রেড দুই হাজার ২০০ টাকা বিক্রি করার কথা থাকলেও তা বিক্রি হচ্ছে বি-গ্রেড দুই হাজার ৯০০টাকায় আর এ-গ্রেড ৩হাজার ১০০টাকা। এরপরও চাহিদা অনুযায়ী মিলছে না আলুর বীজ। তারা আরও জানান, গেলো মৌসুমে বাজারে ভালো দাম পেয়ে কৃষক এবার আলু চাষে ঝুঁকে পড়লেও বেশি দামে বীজ কেনার কারণে একর প্রতি আট থকে দশ হাজার টাকা বেশি খরচ পড়বে। তাই আগামীতে আলুর ন্যায্যমূল্য না পেলে কৃষক ক্ষতির মুখে পড়বেন।কৃষকের দাবি, বীজ কোম্পানির একটি চক্রের সঙ্গে ডিলার-ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আগাম বুকিংয়ের নামে বীজ বাণিজ্য করছে। সংশ্লিষ্ট দফতরে মনিটরিং না থাকার সুযোগ নিয়ে মুনাফাখোর ওই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে বাজারে আলু বীজের কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করেছে। কৃষকদের এসব অভিযোগ খোদ ডিলাররাও স্বীকার করেছেন।জানতে চাইলে ব্র্যাকের ডিলার মো. রফিকুল ইসলাম বীজ সঙ্কটের কথা জানিয়ে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী এ উপজেলায় বীজের বরাদ্দ নেই। বরং বরাদ্দ আরও কমেছে। তাই এবার শেষ পর্যন্ত আলু বীজের সঙ্কট থেকেই যাবে। এছাড়া বীজের দাম বাড়ার পেছনে সাব-ডিলারদের দায়ী করে বলেন, প্রত্যেক বীজ ডিলার আবার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সাব ডিলার (বীজ বিক্রেতা) নিয়োগ দিয়েছেন। তারা আগাম টাকা ও বুকিং দিয়ে আলু বীজ নিচ্ছেন। মূলত তারাই কোম্পানির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নিচ্ছেন।বিএডিসি ও ব্র্যাকের আরেক ডিলার ফিরোজ উদ্দিন মাস্টার বলেন, সবেমাত্র আলু লাগানো শুরু হয়েছে। সবাই একসঙ্গে আলু লাগানোর কারণে আলু বীজের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু সে তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া যেসব কৃষক আগাম বুকিং দিয়েছেন তারাই আগে বীজ পাচ্ছেন।এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. শারমিন আকতার বলেন, এখানে বীজের সঙ্কট নেই। সময়মত সব কৃষকই বীজ পাবেন। দুই একদিনের মধ্যে বিএডিসির বীজ বাজারে এলে শঙ্কা কেটে যাবে। এছাড়া ডিলাররা নির্ধারিত দামের বাইরে বীজ বিক্রি করতে পারবেন না। এরপরও যদি তারা সেটি করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Comments: