promila ad

উচ্ছেদ অভিযানের পরেও বনানীর এমপি পাড়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত।

রাজধানীর বনানীর এমপি পাড়ায় রাজউকের উচ্ছেদ অভিযানের  পরেও দীর্ঘদিন ধরে চলছে আবাসিক প্লটে বাণিজ্যিক কার্যক্রম। চেয়ারম্যান বাড়ি আমতলী এলাকায় ন্যাম ভিলেজ হিসেবে পরিচিত আবাসিক প্লটগুলোতে দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় গত ২০১৬ সালে উচ্ছেদ অভিযান চালায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ( রাজউক)। এমপিদের নামে বরাদ্দকৃত আবাসিক প্লটগুলোতে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অবৈধভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করায়  ২/১ নং সড়কের স্মার্ট কারস ২/৩ নং সড়কের এর ৭ নং আবাসিক প্লটে এ অ্যান্ড এ-কার ,শুভ কার ,২/২নং সড়কের ৫ নম্বর প্লটে এক্সক্লুসিভ কারস সহ ১/এ নং সড়কের আবাসিক প্লটগুলোতে অবস্থিত প্রায় ১৭টি গাড়ির শোরুম উচ্ছেদ করা হয় ।পরবর্তীতে শোরুমের কয়েকজন মালিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্য স্থানে স্থানান্তর করার জন্য সময় চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে । মহামান্য হাইকোর্ট তাদের দশ  মাসের সময় দেয়। হাইকোর্টের দেওয়া সময় অতিবাহিত হলেও ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্য কোথাও স্থানান্তর না করে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বহাল রেখেছে। মহামান্য হাইকোর্টের দেওয়া সময় উত্তীর্ণের পরেও  রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বেশ কয়েকটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও অদৃশ্য কোন ইশারায় বা রাজউকের স্বার্থনেশি কিছু কর্মকর্তাদের অবৈধ পকেট সুবিধার্থে ওই সমস্ত আবাসিক প্লটগুলোতে অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী দের বিরুদ্ধে পুনরায় কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যার ফলে ব্যবসায়ীরা মহামান্য হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ অমান্য করে লক্ষ লক্ষ টাকা সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তাদের অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়নে যাদের উপরে গুরু দায়িত্ব ন্যস্ত রয়েছে তাদের সঠিক নজরদারি দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে উচ্চপদস্থ কোন কর্মকর্তাদের নিকট জবাবদিহিতার জন্য তেমন কোন বাধ্যবাধকতা  না থাকায় পরিদর্শক থেকে শুরু করে প্রত্যেক কর্মকর্তা অবৈধ অর্থ উপার্জনের পকেট সুবিধায় ঢিলেঢালা দায়িত্বে কর্মসময় পাড় করছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ( রাজউক) এ পর্যন্ত যতগুলো উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে এলাকা ভিত্তিক দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কর্তব্যে আগ্রহ নজরদারি দায়-দায়িত্বে অবহেলা থাকায় এসমস্ত অবৈধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী ব্যবসায়ীরা প্রতিনিয়ত আইন ভঙ্গ করে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিধি আরো প্রসারিত করছে । এদের কর্মকান্ড দেখে আরো ব্যবসায়ীরা ওই সমস্ত এলাকায় এভাবে ব্যবসায়ী কার্যক্রমে আগ্রহী হচ্ছে । দিন দিন বৃদ্ধি পেয়ে নতুন নতুন গাড়ী কেনা বেচার শোরুমের বর্তমান সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ এর অধিক। আইনের তোয়াক্কা না করে ব্যবসা পরিচালনার নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অনেক ব্যবসায়ী আবার তাদের শোরুম আরো বর্ধিত করছে এ যেন স্থায়ী ভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার এলাকায় পরিণত করার দৃশ্য ।এদের মধ্যে অন্যতম এ এন্ড এ কার তাদের পাশের শোরুম ভেঙ্গে একত্রিত করে  সূপরিসর বিশাল শোরুমে পরিণত করেছে।এ এন্ড এ কার শোরুমের স্বত্বাধীকারী জব্বার হাওলাদার এর সাথে তার মুঠোফোনে আবাসিক এলাকায় তাদের এমন বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত ভাষায় প্রতিবেদককে বলেন আপনে হাজার হাজার প্রতিবেদন করেন যা পারেন করেন। আমার ব্যবসার পরিচালনা করার বৈধ কোন কাগজপত্র নেই।আপনারে দেখার খুব ইচ্ছা।আসলে এমন ভাবে কথা বলাটা খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু নয় তার কারণ হলো প্রতি মূহুর্তে আইন ভঙ্গ করে তারা বছরের পর বছর ধরে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছে কোন প্রকার বাধা বিপত্তির সৃষ্টি হয়নি।তারা আইনের যে ধারা ভঙ্গ করে কার্যক্রম চলমান রেখেছে তাদের অপরাধ অনুযায়ী কোন প্রকার শাস্তি বা জরিমানার সম্মুখীন হতে হয়নি।এ ধরনের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা শুরুর প্রথম দিকে বিধিমালা ভঙ্গের শাস্তি জরিমানা দেখে একটু আতংকিত হলেও   রাজউকের উচ্ছেদ অভিযানে তাদের বিরুদ্ধে আইনের তেমন কোনো কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় এখন তারা মনে করে এ আইন ভঙ্গ করলে তেমন কোন শাস্তি ভোগ করতে হবে না। যে কারণে তারা মনে করে উচ্ছেদ অভিযান মানে তাদের পুরাতন শোরুম আরো সূসজ্জিত ও প্রসারিত করার নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে।আর এ এলাকার দায়িত্বে থাকা  রাজউক পরিদর্শক ও সহকারী অথরাইজড অফিসাররা তাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ তারা তাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মেনেজ করে এতগুলো ব্যবসায়িকে কোন প্রকার চাপ ব্যতিত ব্যবসা করার সুযোগ দিচ্ছে। কয়েক দিন আগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ঐ এলাকায় ঝটিকা পরিদর্শনে যান এতেও তাড়া কোন প্রকার  শঙ্কিত নয় এটাও  তাদের নিয়মিত কর্মকান্ডের স্বাভাবিক অসুবিধা হিসেবে মনে করে মেয়র স্থান ত্যাগের সাথে সাথে অনেক ব্যসায়ী তাদের প্রতিষ্ঠান আরো প্রসারিত ও নতুন সাইনবোর্ড ডেকোরেশনের কাজ শুরু করেছে। অধিকাংশ শোরুমের কোন প্রকার ট্রেড লাইসেন্স নাই দু একটি প্রতিষ্ঠানের যাও আছে তাও আবার অন্য বাণিজ্যিক এলাকার ঠিকানায় করা । সিটি কর্পোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স পরিদর্শক কারো যেন কোন প্রকার দায়িত্ব নেই যে কারণে এসমস্ত প্রতিষ্ঠান গুলোর লাইসেন্স চেক করাতো দূরে থাক এ প্রতিষ্ঠান গুলো তাদের দৃষ্টিগোচরে আসে না।সামাজিক দায়িত্ববোধ থেকে গণমাধ্যম কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে লেখালেখির মাধ্যমে  সংশ্লিষ্ট আইনের বাস্তবায়ন কারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টিগোচরের উদ্দেশ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকেন। যাতে করে এ ধরনের আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হন। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রকাশিত প্রতিবেদন গুলো কর্তাব্যক্তিদের দৃষ্টিগোচর হলেও দৃশ্য মান কোন কর্মকান্ড প্রতিফলিত হয় না।রাষ্ট্রের অর্থে লালিত পালিত নিয়োগ ভূক্ত দায়িত্বরত কর্মকর্তারা পদমর্যাদা অনুযায়ী রাষ্ট্রের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করেও কর্মরত প্রতিষ্ঠানের আইন বাস্তবায়নে সঠিক প্রয়োগ না করে সততার বিসর্জন দিয়ে কর্মের প্রতিঅনিহা সদিচ্ছা দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। কর্তব্যে অবহেলার দায়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নিকট জবাবদিহিতার বিধি বিধানের তেমন কোন প্রয়োগ না থাকায়, তদারককারী ব্যক্তিরা নির্ভয়ে আইন ভঙ্গ কারীদের কর্মকান্ড সচল রাখতে অসৎ অর্থের সন্তূষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন অপকৌশলে তাদের মদদ দিয়ে নির্বিঘ্নে লুটপাটের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জনে নিমজ্জিত হয়ে অঢেল অর্থ বিত্তের মালিক বনে যান।আইন তার পাতায় রয়ে যায় অপরাধীরা প্রতিনিয়ত আইন ভঙ্গ করে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে তাদের অপকর্ম আরো গতিশীল করে । সমাজের দর্পণ জাতির বিবেক সংবাদ কর্মীরা এদের অপকর্ম তুলে ধরায় বিভিন্ন সময়ে হুমকি হামলা হেনস্থার শিকার হন। মহাখালী রাজউক অফিসের অথরাইজড অফিসার মাকিত সাহেবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমাদের বিধি নিষেধ রয়েছে আমি কিছু বলতে পারবো না।

 

Comments: