১৫, ১৭ ও ২১ আগস্টের ঘটনা সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসী সূত্রে গাঁথা

তুচ্ছ ঘটনায় বারবার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয় দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। আওয়ামীলীগ একটি অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগের যুদ্ধ করার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর বারবার হামলা হচ্ছে, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে ত্রাস সৃষ্টি করা হচ্ছে যেটা দুঃখজনক, বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।

 

গতকাল, রাজধানীতে ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের উদ্যোগে ‘‘জাগো মানুষ রুখে দাও সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস’’ শিরোনামে এক মত বিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। মত বিনিময় সভার প্রধান অতিথি'র বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আ ব ম ফারুক বলেন, ‘সাংগঠনিক ঐক্যতার মধ্য দিয়ে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস রুখে দেওয়া সম্ভব। আর এসব ঘটনার মধ্যে সরকার বিরোধীদের হিংসাত্মক মনোভাব লুকায়িত রয়েছে’।
 

 

সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সা: সম্পাদক ডাঃ শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ সাম্প্রদায়িকতার বিষদাত ভেঙে দিতে এখুনি আমাদের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হব ‘।


এছাড়া বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির অপর যুগ্ম সা:সম্পাদক রেহান সোবহান, সদস্য মিজান ইবনে হোসেন। ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মোহাম্মদ আলাউদ্দীনের সভাপতিত্বে মত বিনিময় সভাটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সরদার মাহমুদ হাসান রুবেল।

 

উক্ত সভায় মতামত ব্যক্ত করেন ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদেরসহসভাপতি প্রফেসর ডা. বেলায়েত হোসেন খাঁন, এম মনসুর আলী, প্রফেসর ড. সামছুদ্দিন ইলিয়াস, ড. এ কে এম নূরুজ্জামান, মো. আমিনুল বাহার, লায়ন হামিদুল আলম সখা, মো. হারুন উর রশিদ, হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন, প্রবীর কুমার সরকার, বিনয় ভূষন তালুকদার, সালাউদ্দিন সিদ্দিক, ডা. অসিত মজুমদার, ডা. মশিউর রহমান, প্রকৌশলী খান মোহাম্মাদ কায়ছার, সালাউদ্দিন আল আজাদ, মো. আওরঙ্গজেব, কে এম সিদ্দিকুজ্জামান, ড. মোলতা মোহাম্মদ কফিল উদ্দিন, ডা. রিয়াসাত আলম (রাহাত) ও সঞ্জিব কুমার রায়।

 

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এস. এম. ওয়াহিদুজ্জামান (মিন্টু), নির্মল বিশ্বাস, লায়ন শোয়েব উদ্দিন সোহেল, শরিফ উদ্দিন ভূঁইয়া, আফসা আহমেদ সানু, ফেরদৌস বিপ্লব ও হারুন আর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক নাফিজ হোসেন দীপ, নাঈম ফেরদৌস পলাস, লায়ন মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ, মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, প্রকৌশলী মো. আসিফ আবেদীন, আবদুল্লাহ আল আমিন রঞ্জন, মো. আজিবুর রহমান রাজিব, প্রকৌশলী মো. জুয়েল ও কৃষিবিদ নাসির উদ্দিন আহম্মেদ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা আক্তার লুনা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লায়ন মশিউর আহমেদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মনিরুল ইসলাম খান, দফতর সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমান, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রায়হান কবির,  গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক কাওসার জাহান রিতা, যুব ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মো. হাসানুজ্জামান খান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কল্যাণ কিশোর, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাইফুজ্জামান মিন্টু,  স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. কামরুল ইসলাম খান (ইমন),  তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম সজীব, আইন বিষয়ক সম্পাদক নীতিশ সরকার, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, গণমাধ্যম বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সাফি, গণযোগাযোগ বিষয়ক সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক রাজিব কিষান, নাট্য ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ পারভীন এলিস, যুব ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক মো. জুয়েল হোসেন, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক মো. মাহুবুর রহমান চৌধুরী, চিকিৎসাসেবা বিষয়ক সম্পাদক  মো. নুরুল আনোয়ার ফারুকী, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ নূর ইসলাম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শারমিন আক্তার, সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আওয়াল হোসেন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. লিয়ার হোসেন, উপ-সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক রাশেদ শোভন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেদওয়ান রাহার প্রামানিক, উপ-দফতর সম্পাদক শেখ ইমরান হোসেন, উপ-তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক শেখ মো. ফারুক শাহ, উপ-মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কাজী সাইফুর রহমান, উপ-স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. ইফফাত মাহবুব, উপ-মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ড. তাসলিমা আক্তার,  উপ-চিকিৎসা সেবা বিষয়ক সম্পাদক মো. জান্নাতুল ফেরদৌস রনি, উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক প্রদীপ কুমার দত্ত, উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শরণ বড়ুয়া, সহ-সম্পাদক ডা. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহিদ, ডা. শেখ শামসুজ্জামান, অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম, প্রকৌশলী এনামুল হক, নাহিদ হোসেন, মো. জামিল হোসেন, মো. মেহেবুব হাসান ও এ ডি সুজাউদ্দিন।সদস্য অঞ্জন রায়, শাহজাহান মোহম্মদ আলিউজ্জাম, ডা. বুশরা জাহান,  ডা. আশীষ কুমার অধিকারী, ডা. আসাদ আদনান উপল, ডা. মো. মিজানুর রহমান, মো. ওহিদুর রহমান, আশরাফুল আলম (আশরাফ), ব্যারিস্টার মো. ইসমাইল হোসেন হাওলাদার, মো. শাহীনুল হক, কামরুল হোসেন কল্পন, মো. জাকির হোসেন, পারভিন আক্তার নিলা, মো. সিরাজুল ইসলাম শাওন, মিনারুল ইসলাম মিনার, প্রকৌশলী মো. মহিদুল হাসান (সুজন), প্রকৌশলী সৈয়দ নিয়াজ মোরশেদ, মো. সাকিব মাহাদি আজিজ, এ এম জোরাফ, রাজিব আহম্মেদ সরদার, লাইলি চৌধুরী, রাফি আহমেদ ও মো. সাইফুল ইসলাম।

 

সভাশেষে, বক্তাদের থেকে পাওয়া মতামতগুলো-
১. সাম্প্রদায়িক হামলার মামলা গুলো  ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন, ২০০২’ এর মাধ্যমে বিচার কার্য সম্পন্ন করতে হবে।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইনে ট্রাইব্যুনালে মামলা পাঠানোর সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান নেই। তাই সাম্প্রদায়িক হামলার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট ভাবে এই আইনে যুক্ত করতে হবে।

যদি কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান নবী বা রাসুলদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তাকেও এই আইনের মাধ্যমে বিচার করতে হবে।

২. যে অঞ্চলে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয় আছে সে এলাকা গুলোতে সম্প্রতি কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি ধর্ম গুরু ও তাদের উপাসনালয় কমিটির সভাপতি (উদাহরন সরূপ ইমাম সাহেব ও মসজিদ কমিটির সভাপতি) , পুলিশ ও প্রসাশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা সমন্বয়ে গঠিত হবে। এই কমিটি সুষ্ঠু ভাবে পরিচালনার জন্য সরকারকে অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।

৩. সকল ধর্মীয় উপাসনালয় সিসিটিভি'র আয়তায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে একটি সরকারি প্রজ্ঞাপনই যথেষ্ট। কারন কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এই ক্ষেত্রে অর্থের অভাব হওয়ার কথা নয়।

৪. ইসলামিক ফাউন্ডেশন কে আরো শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিনত করতে হবে। ইমাম সাহেবের মসজিদে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির বিষয়ে মসজিদে মাসে একদিন হলেও বয়ান করতে হবে।

৫. বাঙালি সংস্কৃতিক শক্তিশালী করতে হবে। টেলিভিশন, বেতার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির উপর শিক্ষনীয় প্রোগ্রাম ও নাটিকা প্রচার করতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিষয়ের উপর ছোট ছোট ভিডিও ক্লিপ নির্মাণ করলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে।

৬. বর্তমানে বাংলাদেশে প্রচলিত মাদ্রাসা শিক্ষাকে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ৩ শ্রেণীতে বিন্যস্ত করা যায়: প্রাচীন কাঠামোভিত্তিক দরসে নিজামি, পরিবর্তিত ও পরিবর্ধিত পাঠক্রম-ভিত্তিক দরসে নিজামি, এবং আলিয়া নেসাব। এই পরিস্থিতিতে মাদ্রাসা বোর্ডকে শক্তিশালী করতে হবে। যেকোন নতুন মাদ্রাসা খুলতে অবশ্যই সরকারের অনুমতি নিতে হবে। যে শ্রেণীর হোক না কেন। সকল মাদ্রাসাই সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন হতে হবে।

৭.  যে স্থানে সাম্প্রদায়িক হামলা হবে সরকারি উদ্যোগ ও অর্থায়নে স্থান গুলোকে পূর্বের অবস্থায় সংস্কার করে দিতে হবে।

যা প্রস্তাবাকারে লিপিবদ্ধ করে ঢাকা মহানগর বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সরদার মাহমুদ হাসান রুবেল উক্ত সভার প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আ ব ম ফারুক-এর নিকট হস্তান্তর করেন এবং পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

পুনরুত্থান/এসআর/মিজান/দয়া

Comments: