ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা শুরু আজ

হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা শুক্রবার শুরু হচ্ছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমার প্রেক্ষাপটে দুই বছর পর ঐতিহাসিক রথ শোভাযাত্রাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার মধ্য দিয়ে আনন্দমুখর পরিবেশে এবারের উৎসবটি উদযাপিত হবে। করোনার কারণে গত দুই বছর সীমিত পরিসরে রথযাত্রা উৎসব উদযাপিত হয়েছিল।

 

প্রতি বছর চন্দ্র আষাঢ়ের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে এই রথযাত্রা শুরু হয়। এর নয় দিনের মাথায় অনুষ্ঠিত হয় উল্টো রথযাত্রা। এবারের উল্টো রথযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ জুলাই।রথযাত্রা একেক অঞ্চলে একেক নামে পরিচিত। জগন্নাথ দেবের রথযাত্রার প্রচলন পুরী জগন্নাথ দেবের মন্দির থেকে। বাংলাদেশেও রথযাত্রা হিন্দুদের একটি পবিত্র উৎসব। ঢাকার উপকণ্ঠে ধামরাইয়ে এ রথযাত্রা যশোমাধবের রথযাত্রা নামে উপমহাদেশ বিখ্যাত। গাজীপুরের জয়দেবপুরে এই রথযাত্রা মাণিক্যমাধবের রথযাত্রা নামে পরিচিত। ভারতের উড়িষ্যা রাজ্যের যশোমাধবের রথযাত্রা ও মহেশের জগন্নাথদেবের রথযাত্রাও উপমহাদেশ বিখ্যাত। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে রথযাত্রার ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

 

জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ ভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) ঢাকা'র অনুষ্ঠানমালা শুক্রবার শুরু হচ্ছে। ইসকনের স্বামীবাগ আশ্রম মন্দির প্রাঙ্গণে সকাল ১১টায় বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ ও দুপুর ১টায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে বিকেল ৩টায় রথটান শুরু হবে। ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী উৎসবের উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এবং বিশেষ অতিথি থাকবেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশিদ। রথটানের মিছিল ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গণে গিয়ে শেষ হবে। সেখান থেকে ৯ জুলাই উল্টো রথযাত্রা শুরু হয়ে ইসকনের স্বামীবাগ আশ্রম মন্দিরে শেষ হবে। ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী যশোমাধবের রথযাত্রাও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত হবে। এছাড়া পুরনো ঢাকার তাঁতীবাজারের জগন্নাথ জিউ ঠাকুর মন্দির, জয়কালী রোডের রামসীতা মন্দির এবং শাঁখারীবাজার একনাম কমিটিসহ রাজধানীর অন্যান্য মন্দির ও দেশের বিভিন্ন মন্দিরেও রথটান অনুষ্ঠিত হবে।

 

রথযাত্রা উপলক্ষে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিত্রয় ঊষাতন তালুকদার, ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক ও নির্মল রোজারিও, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জেএল ভৌমিক, সাধারণ সম্পাদক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি মনীন্দ্র কুমার নাথ, সহ-সভাপতি নির্মল কুমার চ্যাটার্জী এবং সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

Comments: