স্বাস্থ্যের ১২ জনকে তলব চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ আবজাল দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে

Publish: 4 months ago ( 1218)

অনলাইন ডেস্ক

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আলোচিত অফিস সহকারী আবজাল হোসেনসহ পাঁচজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল মঙ্গলবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর মধ্যে আবজালকে দ্বিতীয় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর  নোটিস পাঠিয়ে ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। এর মধ্যে গতকাল চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বাকিদের আজ ও কাল জিজ্ঞাসাবাদের কথা রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম তাকে কমিশনের জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষে নিয়ে যান বলে দুদকের জনসংযোগ কার্যালয় জানিয়েছে। এর আগে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুদকে আনা হয়। বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলায় আবজালকে ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় সাত দিন জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ২০ সেপ্টেম্বর আবজালকে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৩ আগস্ট আবজাল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন। গত বছরের ২৭ জুন দুদক উপ-পরিচালক মো. তৌফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ অবৈধ সম্পদ অর্জন, মানি লন্ডারিং এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলা দুটি করেন। প্রথম মামলায় আবজালের স্ত্রী রুবিনা খানমের বিরুদ্ধে ২৬৩ কোটি ৭৬ লাখ ৮১ হাজার টাকা মানি লন্ডারিংসহ ২৮৫ কোটি ২৭ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। এ কাজে স্ত্রীকে সহায়তার জন্য স্বামী আবজালকেও আসামি করা হয়। অন্য মামলায় আবজালের বিরুদ্ধে ২০ কোটি ৭৪ লাখ ৩২ হাজার টাকা পাচার এবং ২ কোটি ১ লাখ ১৯ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপনসহ ৪ কোটি ৭৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ আনা হয়। এদিকে দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আরও চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কমিশন। গতকাল দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশনের উপ-পরিচালক ও অনুসন্ধান দলের প্রধান মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী প্রোগ্রামার মো. রুহুল আমিন, প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন হাওলাদার, অধিদফতরের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান ফকির ও আবু সোহেল দুদকের এই জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সাংবাদিকদের কাছে প্রধান সহকারী জাহাঙ্গীর হোসেন দাবি করেন, তার কোনো অঢেল সম্পত্তি  নেই। অন্য কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন কিনা তা তার জানা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার কোনো সম্পদের পাহাড় নেই। অন্যদের  বেলায় কী আছে, কী নেই তা আমি জানি না। আমার যা বলার আমি এখানে (দুদক) বলেছি, আপনারা জেনে নেবেন। তবে অন্য ৩ জন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। এর আগে গত ৮ অক্টোবর স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর নোটিস পাঠিয়ে ১২ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। এর মধ্যে গতকাল চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বাকিদের আজ ও কাল জিজ্ঞাসাবাদের কথা রয়েছে।

ওই নোটিসে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিজের ও স্ত্রীর নামে থাকা পাসপোর্ট, এনআইডি ও আয়কর রিটার্নের অনুলিপি সঙ্গে নিয়ে আসতে বলা হয়। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সম্পর্কে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদফতরে সিন্ডিকেট করে সীমাহীন দুর্নীতির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে বিদেশে অর্থ পাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

Comments: