LATEST
আজ সংসদ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি ঝিনাইদহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিদর্শন বাংলোতে কেনা কাটায় কেলেংকারিসহ নানা দুর্নীতির তদন্ত সুষ্ঠ হবে তো? শীতার্ত বৃদ্ধা মায়েদের শীতবস্ত্র দিলেন যুবলীগ নেতা লুৎফর আত্রাইয়ে আম গাছে উঁকি মারছে মুকুল মাগুরায় উপজেলা পরিষদ এসোসিয়েশনের মত বিনিময় সভা পুঁজি বাঁচাতে কম মূল্যে মুরগী বিক্রি করছে খুলনাঞ্চলের খামারীরা মাগুরায় মুজিবর্ষে ১১৫ ভ‚মিহীন পাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর মাগুরার পৌর মেয়রখুরশীদ হায়দার টুটুল শৈলকুপা পৌর নির্বাচনে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর গাড়ি ভাংচুর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ প্রদান আজ

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংক: টিআইবি

Publish: 3 months ago ( 1408)

অনলাইন ডেস্ক

খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক অকার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।আজ মঙ্গলবার সকালে জুমে ব্যাংকিং খাত তদারকি ও খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ: বাংলাদেশ ব্যাংকের সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায় শীর্ষক টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির পরিচালক (গবেষণা ও পলিসি) মোহাম্মদ রফিকুল হাসান। প্রতিবেদনে খেলাপিঋন নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন দু্র্বলতার চিত্র উঠে এসেছে। এতে ক্রমবর্ধমান খেলাপি ঋণ ও ব্যাপক  অনিয়মে  জর্জরিত ব্যাংকিং খাত সংস্কারের জন্য এখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি  স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠনসহ ১০টি সুপারিশ করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জনগণের আমানতকৃত অর্থ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও এই সঞ্চিত অর্থের ওপর আমানতকারীদের সরাসরি কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। আমানতকারীদের পক্ষ থেকে এই আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তদারকি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্ত ব্যাংকিং খাত থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমানতকারী তথা সাধারণ জনগণের অর্থ দীর্ঘদিন ধরেই খেলাপি ঋণের মাধ্যমে আত্মসাৎ হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯  সালের শুরুতে  দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি  টাকা,  যা  সেপ্টেম্বর  ২০১৯  পর্যন্ত  বেড়ে  দাঁড়ায়  এক লক্ষ  ১৬  হাজার  ২৮৮ কোটি  টাকা।  অর্থাৎ  এ সময়ে  বছরে  গড়ে  নয়  হাজার  ৩৮০  কোটি  টাকা  খেলাপি  হয়েছে।  এই  বৃদ্ধির  পরিমাণ প্রায়  ৪১৭  শতাংশ।  যদিও জুনে এসে  খলাপিঋণ বৃদ্ধির এই হার  ৩১২  শতাংশ।  তবে  আন্তর্জাতিক  মুদ্রা  তহবিল  (আইএমএফ)  এর  একটি প্রতিবেদন  অনুযায়ী  জুন  ২০১৯  পর্যন্ত  ব্যাংকিং  খাতে  খেলাপি  ঋণের  প্রকৃত  পরিমাণ  ছিল  দুই লক্ষ  ৪০  হাজার  ১৬৭ কোটি  টাকা। অপর  একটি  প্রতিবেদন  অনুসাররে, আইএমএফ  এর  খেলাপি  ঋণের  এই  পরিমাণের  সাথে অবলোপনকৃত ৫৪,৪৬৩ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ যোগ করলে জুন  ২০১৯  পর্যন্ত  প্রকৃত  খেলাপি  ঋণের  পরিমাণ  প্রায়  তিন লক্ষ কোটি টাকা।এতে বলা হয়, এই  বিপুল  পরিমাণ ঋণ  বর্তমান  ব্যাংকিং  খাতে  অন্যতম  একটি  চ্যালেঞ্জ। বিভিন্ন  সময়ে  খেলাপি  ঋণ  হ্রাস  এবং  ইচ্ছাকৃত  ঋণ  খেলাপিদের  বিরুদ্ধে  ব্যবস্থা গ্রহণের  কথা  বলা  হলেও  তা কার্যকর  না  করে  সরকার  ও  বাংলাদেশ  ব্যাংক  কর্তৃক  বার বার  ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ  ও পুনর্গঠনের  সুযোগ প্রদান  করা হয়।  সর্বশেষ  মে  ২০১৯  এ  বাংলাদেশ  ব্যাংকের  একটি  নির্দেশনায়  খেলাপি  ঋণের  মাত্র  দুই  শতাংশ  ফেরত  দিয়ে পুনঃতফসিলীকরণের  মাধ্যমে  ১০  বছরের  মধ্যে  ঋণ  পরিশোধের  সুযোগ  প্রদান  করা  হয়।  এভাবে  পুনঃতফসিলের  মাধ্যমে  খেলাপি  ঋণ আদায়  না  করেই  সেপ্টেম্বর  ২০১৯  হতে  প্রায়  ২৪  হাজার  কোটি  টাকা  খেলাপি  ঋণ  কমিয়ে  মার্চ  ২০২০  পর্যন্ত  ৯২  হাজার  ৫১০  কোটি টাকা  খেলাপি  ঋণ  হিসেবে  দেখানো  হয়।  ঋণ  খেলাপিদের  বিভিন্ন  ধরনের  সুযোগ  সুবিধা  প্রদান  ও  খেলাপি  ঋণ  কম  দেখাতে  বিবিধ কৌশল  অবলম্বন  সত্ত্বেও গত জুনে খেলাপি  ঋণের  পরিমাণ  পুনরায়  বৃদ্ধি  পেয়ে  দাঁড়ায়  ৯৬  হাজার  ১১৭  কোটি  টাকা।প্রতিবেদনে বলা হয়, খেলাপি  ঋণ  নিয়ন্ত্রণ,  ব্যাংকিং  খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা  এবং  আমানতকারীদের  স্বার্থ  সংরক্ষণে  বাংলাদেশ  ব্যাংকের  তদারকি  কার্যক্রমের  ক্ষেত্রে  প্রধানত দুই  ধরনের  সুশাসনের চ্যালেঞ্জ  লক্ষ  করা  যায়।  এক  হচ্ছে  বাহ্যিক  প্রভাব  যার  মধ্যে  রয়েছে  আইনি  সীমাবদ্ধতা,  রাজনৈতিক  হস্তক্ষেপ  এবং  ব্যবসায়িক  প্রভাব। আর  অপরটি  হচ্ছে  অভ্যন্তরীণ  চ্যালেঞ্জ  যার  মধ্যে  রয়েছে  তদারকি  সক্ষমতায়  ঘাটতি,  নেতৃত্বের  সক্ষমতায়  ঘাটতি,  বাংলাদেশ  ব্যাংকের কার্যক্রমে  স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায়  ঘাটতি এবং  তদারকি  কাজে সংঘটিত  অনিয়ম  দুর্নীতি।প্রতিবেদনে ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং সুস্থ  ও নিরাপদ  ব্যাংকিং ব্যবস্থা কায়েমে ১০টি  সুপারিশ  করেছে টিআইবি। এগুলো হলো- ক্রমবর্ধমান  খেলাপি  ঋণ  ও  ব্যাপক  অনিয়মে  জর্জরিত  ব্যাংকিং  খাত  সংস্কারের  জন্য  এখাত  সংশ্লিষ্ট  বিশেষজ্ঞদের  সমন্বয়ে একটি  স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন কর, ব্যাংক  কোম্পানী  আইনের  ৪৬  ও  ৪৭  ধারা  সংশোধন  করে  বাংলাদেশ  ব্যাংককে  রাষ্ট্রায়ত্ত  ব্যাংক  নিয়ন্ত্রণ  ও  তদারকির  পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া,  বাংলাদেশ  ব্যাংকের  পরিচালনা  পর্ষদ  সদস্য,  গভর্নর  ও  ডেপুটি  গভর্নর  নিয়োগ  ও  অপসারণ  বিষয়ে  সুনির্দিষ্ট  লিখিত  নীতিমালা করা;  যেখানে  নিয়োগ  অনুসন্ধান  কমিটির  গঠন,  দায়িত্ব-কর্তব্য  এবং  নিয়োগ  প্রক্রিয়া  সম্পর্কে  সুনির্দিষ্ট  নির্দেশনা থাকবে, বাংলাদেশ  ব্যাংকের  পরিচালনা  পর্ষদে  তিনজন  সরকারি  কর্মকর্তার  স্থলে  বেসরকারি  প্রতিনিধির  সংখ্যা বৃদ্ধি করা, ব্যাংক  সংশ্লিষ্ট  আইনসমূহে  আমানতকারীর  স্বার্থ  পরিপন্থী  ও  ব্যাংকিং  খাতে  পরিবারতন্ত্র  কায়েমে  সহায়ক  সকল  ধারা সংশোধন/বাতিল  করা, রাষ্ট্রায়ত্ত  ব্যাংকসহ  সকল  বাণিজ্যিক  ব্যাংকের  পরিচালক  নিয়োগে  অনুসন্ধান  কমিটির  মাধ্যমে  একটি  প্যানেল  তৈরি  এবং সেখান  থেকে  বিভিন্ন  ব্যাংকের  পরিচালক  নিয়োগের  বিধান  করা, আদালত কতৃক  স্থগিতাদেশ  প্রাপ্ত খেলাপি  ঋণের  বিপরীতে  নিরাপত্তা  সঞ্চিতি  রাখার  বিধান প্রণয়ন  করা,  বারবার  পুনঃতফসিল  করে  বারবার  খেলাপি  হওয়া ব্যক্তিদের  তালিকা  প্রকাশ করা, ব্যাংক  পরিদর্শনের  সংখ্যা  ও  সময়কাল  বৃদ্ধি,  প্রত্যক্ষভাবে  পরিদর্শন  কাজের  সাথে  সম্পৃক্ত  বিভাগসমূহের  শূন্য  পদসমূহ অবিলম্বে  পূরণ, পরিদর্শন  প্রতিবেদন  যুক্তিসংগত  সময়ের  মধ্যে  সমাপ্ত  ও  এর  সুপারিশ  বাস্তবায়ন  এবং  পরিদর্শনে তাৎক্ষণিকভাবে  কিছু  সিদ্ধান্ত গ্রহণ  ও  ব্যবস্থা গ্রহণের  ক্ষমতা পরিদর্শন দলকে  দেওয়া এবং তদন্ত  প্রতিবেদন  তৈরি  ও  বাস্তবায়নে  সংঘটিত  অনিয়ম-দুর্নীতির  সাথে  জড়িত  ব্যক্তিদের  বিরুদ্ধে  দৃষ্টান্তমূলক  শাস্তির  ব্যবস্থা করা। 

Comments: