সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ (শুক্রবার)। সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারি সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করেছিল।

 

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি জোটবদ্ধ ও এককভাবে শিক্ষা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে আপসহীন সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। কিন্তু সংগঠনের অভ্যন্তরে আদর্শিক ও সাংগঠনিক বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যের কারণে ছাত্র ফ্রন্ট এখন তিন ধারায় বিভক্ত। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট নামে এখন তিনটি সংগঠন কাজ করছে। ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ), ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) ও গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল। বাসদ ও মার্ক্সবাদীরা ২১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করলেও ছাত্র কাউন্সিল পালন করে ১৬ জানুয়ারি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পৃথক পৃথক শুভেচ্ছা বাণীও দিয়েছে সংগঠনগুলো। 

 

সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (বাসদ) সভাপতি আল কাদেরী জয় ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন প্রিন্স শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে সর্বজনীন, বিজ্ঞানভিত্তিক, সেক্যুলার, একই পদ্ধতির গণতান্ত্রিক শিক্ষার দাবিতে এই সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তীতে দেশের যেকোনো গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। ছাত্রসমাজকে উদ্বুদ্ধ করেছে সমাজ পরিবর্তনের লড়াইয়ে সামিল হওয়ার জন্য। পুঁজিবাদী শোষণমূলক ব্যবস্থায় জনগণের শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্যের অধিকার মুনাফার কাছে বন্দি। এই বন্দিদশা পুরো বিশ্বব্যাপী স্পষ্ট হয়ে উঠেছে করোনা মহামারিকালে।

 

তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে দেশে শিক্ষা চলছে বাণিজ্যিক ধারায়, সাম্প্রদায়িক ধ্যান ধারণার ভিত্তিতে। একমুখী শিক্ষার বদলে শিক্ষা আজ বিভক্ত ১১ ধারায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই। আজকে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হলে এই ব্যবস্থা বদলানোর সংগ্রামে সামিল হওয়া ছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই। ছাত্র-তরুণ সমাজ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবসময়ই সেই সংগ্রামের অগ্রভাগে ছিল, ভবিষ্যতেও তাকে সেই ভূমিকা নিতে হবে।

 

এদিকে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়দেব ভট্টাচার্য ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদ শাহরিয়ার শুভেচ্ছা বাণীতে বলেন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিগর্ভে ১৯৮৪ সালের ২১ জানুয়ারি জন্ম নেয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট। মার্কসবাদ-লেনিনবাদ-শিবদাস ঘোষের চিন্তাকে ভিত্তি করে এই দীর্ঘ যাত্রায় শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, সাম্প্রদায়িকীকরণ বিরোধী ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ সংগঠনের মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে। সংগঠনের এই গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা তৈরিতে সংগঠন কৃতজ্ঞতায়-শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে সেই সকল কর্মীদের, স্মরণ করছে অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী-শুভানুধ্যায়ী ও দরদীদের। যাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অনায়াস প্রচেষ্টায় আজকের সংগঠন।

 

তারা বলেন, সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বর্তমানে আওয়ামী সরকারের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, শিক্ষা ও ছাত্র অধিকার বিরোধী নানান অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এবং মনুষ্যত্ব, মানবিকতা-মূল্যবোধ ধ্বংসের বিপরীতে সচেতন লড়াই করছে। সর্বজনীন বৈষম্যহীন বিজ্ঞানভিত্তিক সেক্যুলার একই ধারার গণতান্ত্রিক শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চলমান লড়াইয়ে আপনাদের আন্তরিক পরামর্শ ও সহযোগিতা আমাদের পাথেয়।

 

কর্মসূচি

২১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে নানা কর্মসূচি পালন করবে সংগঠনটি। কেন্দ্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৩ জানুয়ারি বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলায় ছাত্র সমাবেশ করবে মার্ক্সবাদী ছাত্র ফ্রন্ট ও ২৬ জানুয়ারি একই সময়ে অপরাজেয় বাংলায় ছাত্র সমাবেশ করবে বাসদ ছাত্র ফ্রন্ট।

 

 

পুনরুত্থান/আরিফা/সাকিব/দয়া

Comments: